বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার লজ্জার রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৯২

অস্ট্রেলিয়ার লজ্জার রেকর্ডের দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৯২

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরুই হয়েছিল লজ্জার রেকর্ড দিয়ে। স্কোরবোর্ডে কোনো রান না তুলেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে বার্টলেট ও লাবুশেনের প্রতিরোধে ম্যাচে ফেরার আভাস দিলেও তাসকিন আহমেদের টানা আঘাতে আবারও চাপে পড়ে অজিরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই বৃষ্টি হানা দিলে থমকে যায় খেলা। আর দীর্ঘ বিরতির পর ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য।

বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে, পরে ওভার কাটার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিট থেকে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিএলএস পদ্ধতিতে ম্যাচ দাঁড়ায় ৪১ ওভারে, আর বাংলাদেশের সামনে নির্ধারণ করা হয় ১৯২ রানের লক্ষ্য। তবে আকাশের অবস্থার ওপর এখনো পুরো ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভরশীল।

বৃহস্পতিবার মিরপুরে টসে জিতে সিদ্ধান্তে বদল আনে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে শুরুতে ফিল্ডিং করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বেছে নেয় ব্যাটিং। তবে মতের বদলে ভাগ্য বদলাতে পারেনি সফরকারীরা। উল্টো বিনা রানেই হারিয়েছে তিন উইকেট। ১০২৪ ম্যাচের ইতিহাসে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারাল তারা।

উইকেট বৃষ্টির শুরুটা করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন এই পেসার। বেক অব লেন্থের ভেতরে ঢুকা বলটাকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন শর্ট। কিন্তু তাসকিনের মাপা লেন্থের বলটা সরাসারি স্টাম্পে আঘাত হানে। তাতেই টানা চার ম্যাচে বিনা রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

তাসকিনের ঝোড়ো শুরুর পর দ্বিতীয় ওভারে টর্নেডো বইয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। গুড লেন্থে করা ওভারের প্রথম বলে কুপার কনোলিকে বোকা বানান এই পেসার। খোঁচা মেরে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কনোলি। ওয়ানডেতে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার উভয় ওপেনার ডাক মেরে ফিরলেন।

এশিয়ান কন্ডিশনে ভালো খেলা ম্যাট রেনশোর ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন এনেছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ চারে ব্যাট করতে নামেন তিনি। কিন্তু মোস্তাফিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ অনুশীলন করলেন রেনশো। অফ স্টাম্প ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলটাকে খোঁচা মেরে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।

পাঁচে নামা অ্যালেক্স ক্যারি ইনিংসটা যখন গড়তে শুরু করেছেন, তখনই আঘাত হেনেছেন মোস্তাফিজ। স্কয়ার ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে দাঁড়ানো শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ক্যারি। এরপর ক্যামরুন গ্রিন আর জশ ইংলিস মিলে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নিয়েছেন। ১৮তম ওভারে ইংলিশকে আউট করে সেই আশা ভঙ্গ করেন তানভীর।

সঙ্গী হারিয়ে গ্রিনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন বার্টলেট ও লাবুশেন। এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ১০৩ রানের জুটি। এতেই লড়াকু সংগ্রহ পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৪১তম ওভারে বার্টলেট ও জাম্পা আউট হলে আবারও বিপদে পড়ে সফরকারীরা।

তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর অজিদের ইনিংস বেশিদূর গড়ায়নি। বেরসিক বৃষ্টিতে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া। এরপর প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ম্যাচ গড়ায় ৪১ ওভারে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ডিএলএস পদ্ধতিতে টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।

বাংলাদেশের হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন-মোস্তাফিজ। বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম পেয়েছেন দুই উইকেট।

আইএইচ