বিজ্ঞাপন

গলা টিপে ধরে বলল তুই আসামি, কথা বলবি না : ক্রিকেটার নাঈম হাসান

গলা টিপে ধরে বলল তুই আসামি, কথা বলবি না : ক্রিকেটার নাঈম হাসান

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। প্রিমিয়ার লিগ খেলে ঢাকা থেকে নিজ শহর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। যাত্রাপথে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে উঠানো ও মারধরের ওই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নাঈম। 

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ঘটনা ঘটে। ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ, তাকে ডিবি পরিচয়ে চেক করা হয়। একপর্যায়ে সাদা পোশাকে থাকা একজন ও দুই পুলিশ সদস্য তাকে মারধর শুরু করে। নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও সেই হেনস্তা থেকে রেহাই পাননি বলে জানিয়েছেন নাঈম। 

dhakapost

চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর নাঈম বর্তমানে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় রয়েছেন। ২৬ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি স্পিনার বলেন, ‘আমার প্রিমিয়ার লিগে খেলা চলছিল, আমার ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আসতেছিলাম, ১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে আমার সিএনজি দাঁড় করাল, ড্রাইভারের থেকে কাগজপত্র নিলো। আমি পুলিশকে বললাম, ‘আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে”।’ 

কান্নারত নাঈম বলেন, ‘আমাকে গলা চিপে ধরে বললো– “তুই গাড়িতে উঠ”। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি “আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন” বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্থা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারতেছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারতেছিল। বলতেছিল “তুমি আসামি, কথা বলবি না”। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।’

পরে নাঈমকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি, ‘গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলছে, উনি থানায় নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আমাকে ব্যাগসহ এখানে এনে বলা হয় “স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি।”  আজ পর্যন্ত পুলিশ, আর্মি আমাদেরকে ডাকলে নামি, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মারছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মারছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নাই। আজকে আমাকে মারছে, আরেকদিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?’

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের পর এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় নাঈমকে, ‘মোবাইল হাতে পাওয়ার সাথে সাথে তামিম ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। উনি এরপর ওসির সঙ্গে কথা বলছেন, আব্বুর সাথে কথা বলছিলেন। এটার বিচার হবে আশ্বস্ত করেছেন।’ 

dhakapost

জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের দাবি– ‘পুলিশের গাড়ি তো ছিল সেখানে। গাড়িতে না তুলে সিএনজিতে করে আমাকে কই নিয়ে যাইতো?.. আমার জায়গায় যদি সাধারণ মানুষ হইতো আপনারা কেউ আসতেন না, একশ-দেড়শ মানুষ কোশ্চেন করতো না। পুলিশের হাতে যদি মানুষ সেইফ না থাকে তাহলে আর লাভ কী!’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো.আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘উনি (নাঈম হাসান) ন্যায় বিচার পাবেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, আমরা এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কারণ এটার সঙ্গে পুলিশের ইমেজ জড়িত। আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে কাজ করতেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই টলারেট করব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য আছে। যেটা আপনারা শুনেছেন, তথ্যের উৎসটাও জেনেছেন, এটি ভেরিফাই করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে উনারা (পুলিশ) গিয়েছেন এবং যাওয়ার প্রক্রিয়াটুকু যথাযথ নিয়ম অনুসারে হয়েছে কি না সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। পুলিশিং প্রক্রিয়ায় মারধর করার সুযোগ নাই।’

আরএমএন/এএইচএস