অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যাটে-বলে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি আবদুল গাফফার সাকলাইন। অভিষেক সিরিজেই পারফরম্যান্সের ঘাটতিতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তবে মাত্র কয়েকটি ম্যাচের ব্যর্থতায় তাকে বাতিলের খাতায় ফেলতে চাইবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দলের প্রয়োজন বিবেচনায় সাকলাইনকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে বেশ কিছু শক্ত যুক্তি রয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়েছেন সাকলাইন। বিপিএল, এনসিএল, টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও ইমার্জিং এশিয়া কাপে ব্যাট-বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। মিডল ওভারে স্লোয়ার, কাটার ও লেন্থের বৈচিত্র্যে রান আটকে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত উইকেট শিকার করেছেন। ব্যাট হাতেও শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্য রয়েছে তার। ফলে তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই।
বিপিএলে আলো ছড়ালেও শুরুতে অবশ্য জাতীয় দলের পরিকল্পনায় ছিলেন না সাকলাইন। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস নির্দিষ্ট কম্বিনেশন ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে না পারায় বিকল্প খুঁজতে হয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। সেই প্রেক্ষাপটেই নিউজিল্যান্ড সিরিজে ডাক পান সাকলাইন। পরে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সাইফউদ্দিনের জায়গায় অভিষেক হয় তার।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম বড় পরীক্ষায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজজুড়ে বোলিং ও ব্যাটিং দুই বিভাগেই ছিলেন নিষ্প্রভ। ঘরোয়া ক্রিকেটে যে দক্ষতা তাকে জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছিল, তার প্রতিফলন দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ফলে সমালোচনার তীরও ধেয়ে এসেছে তার দিকে।
তবু সাকলাইনকে নিয়ে বিসিবির ধৈর্য ধরার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই একজন কার্যকর ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডারের খোঁজে রয়েছে বাংলাদেশ। সেই জায়গায় সাকলাইনকে আরও কিছু ম্যাচ সময় দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। কারণ, বর্তমানে মিডল ওভারে নিয়মিত উইকেট এনে দেওয়ার মতো বোলারের ঘাটতি রয়েছে দলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ভূমিকায় সফল ছিলেন সাকলাইন।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টিও সামনে রয়েছে। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। দুই দেশের কন্ডিশনে একজন কার্যকর ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার দলের ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। পেস ও বাউন্স সহায়ক উইকেটে চার পেসার নিয়ে খেলার প্রয়োজন হলে, এমন একজন ক্রিকেটারের উপস্থিতি কৌশলগত সুবিধা এনে দেবে বাংলাদেশকে।

সেই বিবেচনায় সাকলাইনকে এখনই ছেঁটে ফেলার বদলে সময় দিয়ে গড়ে তোলার পথেই হাঁটতে পারে বিসিবি। অবশ্য সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার দায়িত্বও তার। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। এখন নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, চাপ সামলানো এবং পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আনার চ্যালেঞ্জ সাকলাইনের সামনে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ তিনি আগেই দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেন কি না এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
আইএইচ
