কলকাতায় কিংসের দুঃস্বপ্নের সন্ধ্যা

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২১ মে ২০২২, ০৮:১৮ পিএম


কলকাতায় কিংসের দুঃস্বপ্নের সন্ধ্যা

রেফারির ম্যাচ শেষের বাঁশি। বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা কেউ জার্সিতে মুখ লুকাচ্ছেন, কেউ আবার রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ালেন। এসব কিছুই মোহনবাগানের সঙ্গে ০-৪ গোলে হারের বহিঃপ্রকাশ। এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংসের এটি তৃতীয় আসর। এবারই প্রথম হারের তেতো স্বাদ গ্রহণ করল ক্লাবটি। এই হারে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়া বাংলাদেশের ক্লাবটির পক্ষে অনেক কঠিন হয়ে গেল।

ম্যাচের স্কোরলাইন কিংসের হতশ্রী অবস্থা দেখালেও শুরুটা ছিল কিন্তু দুর্বার। বসুন্ধরা কিংস ম্যাচের প্রথম দিকে নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল। প্রথমার্ধে ক্রসবার বাধা না হয়ে দাড়ালে দুই গোলের লিডও পেতে পারত বাংলাদেশের দলটি।
 
ক্রসবারের পাশাপাশি কলকাতার আবহাওয়াও কিংসকে পেছনের দিকে টেনেছে। আকস্মিক ঝড়ে ৫০ মিনিট খেলা স্থগিত ছিল। ভারী মাঠে উভয় দলের ফুটবলাররা স্বাভাবিক নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি। প্রথমার্ধে স্বাগতিকরা এরপর ২-০ গোলের লিড নিয়ে নেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে কিংস খেলায় ফেরার আগেই মোহনবাগান নিজেদের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে নেয়। ৫৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসো নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এএফসি কাপের প্লে অফে আবাহনীর বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করা ডেভিড উইলিয়ামসন বাংলাদেশের এই ক্লাবটির বিপক্ষেও করেন এক গোল। ৭৭ মিনিটে উইলিয়ামসনের গোলে ০-৪ গোলের বড় হারে মাঠ ছাড়ে কিংস।
 
বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজন আজকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। আগের ম্যাচের জয়সূচক গোলদাতা নুহা মারংকে আজ রাখেননি। তার বদলে দলে নিয়েছিলেন অতিথি খেলোয়াড় চিন্ডোকে। যিনি দলের সাথে মাত্র এক দিন অনুশীলন করেছেন।

আক্রমণভাগের নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি বসুন্ধরা কিংস এই ম্যাচে ডুবেছে মূলত রক্ষণের ব্যর্থতায়। বিশেষ করে কিংসের জাতীয় দলের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথের ভুলে ম্যাচে প্রথম পিছিয়ে পড়ে তারা। তৃতীয় গোলের পেছনেও ডিফেন্ডারদের দায় ছিল।
 
ঢাকা আবাহনী প্লে অফ ম্যাচে এই সল্টলেকে ৩-১ গোলে হেরেছিল। আবাহনী সেই ম্যাচে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিংস আবাহনীর চেয়ে শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও সেই অর্থে লড়াই করতে পারেনি মোহনবাগানের সঙ্গে।

কলকাতায় ম্যাচ শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর তুমুল ঝড় হয়। সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী না হলেও খেলা অনেকটা সময় স্থগিত ছিল। খেলা শুরু হওয়ার পর পর বসুন্ধরা কিংস স্বাগতিকদের চেপে ধরে। বসুন্ধরা কিংসের দুটি আক্রমণ পোস্টে লেগে ফেরত আসে। বিশেষ করে রিমনের বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত জোরালো গতির শটটি সাইড পোস্টে লাগলে ভীষণ আশাহত হতে হয় কিংস সমর্থদের।
 
ভাগ্য বিড়ম্বনার পাশাপাশি প্রকৃতির বিড়ম্বনায়ও পড়েছিল বসুন্ধরা কিংস। ২৪ মিনিটে মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসো যে গোল করেছে তা অনেকটা যেন প্রকৃতির বদান্যতায়। বৃষ্টিতে ভারী মাঠ হওয়ায় ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পড়ে যান। ফলে বক্সের মধ্যে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করেন কোলাসো। সল্টলেকের গ্যালারী উল্লাসে মাতে।
 
নয় মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে একটি থ্রু ধরে কোলাসো ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ছোটেন। আগুয়ান গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে পরাস্ত করেন। ঠান্ডা মাথায় প্লেসিংয়ে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের।

এজেড/এইচএমএ

Link copied