অস্ট্রেলিয়ায় বাফুফে সভাপতির কাছে ঋতুপর্ণাদের আবদার

১৯৮০ সালের পর বাংলাদেশ আবার এশিয়া কাপের মঞ্চে। কুয়েতে সেই এশিয়া কাপে খেলেছিলেন সালাউদ্দিন-চুন্নুরা। ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ আবার এশিয়া কাপে। এবার খেলবেন আফিদা-ঋতুপর্ণারা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ঐতিহাসিক মুহূর্তের দোরগোড়ায় থাকায় ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকলেই বেশ রোমাঞ্চিত।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল নারী এশিয়া কাপের খেলা দেখতে গত পরশু দিন সিডনি এসে পৌঁছেছেন ৷ আজ দুপুরে টিম হোটেলে তিনি কোচিং স্টাফ ও নারী ফুটবলাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বাফুফে সভাপতি দলের প্রতি শুভকামনা জানান। ঋতুপর্ণারাও তার কাছে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলছে। তাই বাংলাদেশ থেকে সিডনি এসেছেন প্রায় ২০ জন সাংবাদিক। টিম হোটেলের সামনে বাফুফে সভাপতি তাবিথ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বাংলাদেশ নারী দল চায়নার নারী দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে। অবশ্যই ইতোমধ্যে আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি এবং আশা করি আগামীকাল আরেকটি ইতিহাস আমরা সৃষ্টি করতে পারব।’

চীন এশিয়া কাপের অন্যতম শিরোপা দাবিদার। তারা এশিয়া কাপ তো বটেই, বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলে। তাই বাফুফে সভাপতি ফুটবলারদের তেমন চাপে রাখতে চান না, ‘চীন কিন্তু বিশ্বকাপেও খেলে। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আগামীকাল তাদের সঙ্গে আমরা ভালো খেলা উপহার দেব। প্রথমে দলের প্রতি আমার বার্তা ছিল যে— আমি একজন ভক্ত। আমি একজন ভক্ত হিসেবেই কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছি সিডনিতে তাদের খেলা দেখার জন্য৷ আমার বার্তা ছিল যে তারা তাদের সেরাটা দেবে। যতটুকু রিসোর্স আমরা দিতে পেরেছি, দিয়েছি। এই রিসোর্সের বিনিময়ে তারা যতটুকু দিতে পারে দেশের জন্য, নিজের জন্য— তারা যেন অবশ্যই খেলে।’
সভাপতিকে কাছে পেয়ে দাবি দাওয়াও করেছেন ঋতুপর্ণারা। আগামী ম্যাচের আগে বোনাস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে সভাপতি বলেন, ‘তারা দাবি করেছে যে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা যেন অন্তত পরের ম্যাচের জন্য তাদের একটা উপহার বা বোনাস ঘোষণা করি। আমি বলছি অবশ্যই আমরা করব, কিন্তু তোমরা বাংলাদেশের জন্য খেলো।’ ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাফুফে দেড় কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছিল। যদিও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সেটা বাফুফে দিতে পারেনি।
১২ দল তিন গ্রুপে খেলছে। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থাকা দুই সেরা দলও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে। চীন-উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী হলেও উজবেকিস্তানকে হারিয়ে কোয়ার্টারে খেলার স্বপ্ন দেখছেন বাফুফে সভাপতি, ‘টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সেরা তৃতীয় দুটি দল কিন্তু কোয়ালিফাইও করবে। তো আমাদের শেষ খেলা পর্যন্ত, তৃতীয় ম্যাচ পর্যন্ত সবসময় একটা সুযোগ থাকবে। আমি কথা বলেছি ফিজিওর সাথে, ফিটনেস ট্রেইনার ও নিউট্রিশনিস্টের সাথে। সবাই কিন্তু ট্রেনিং সেশন দেখে খুব ইতিবাচক। বাংলাদেশ অন্তত কৌশলগত ও ফিটনেসের দিকে চীন বা উত্তর কোরিয়ার পর্যায়ে আছে। তাই কালকের জন্য ভালো কিছুর আশা।’
মিয়ানমারকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলছে। বাফুফে সভাপতি মিশন অস্ট্রেলিয়া নাম দিয়েছিলেন। সেই মিশন পুরোপুরি হয়নি প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায়। আগামীকাল ম্যাচের আগে বাফুফে সভাপতি পুরোনো ঘটনায় যেতে চান না, ‘আগের বিষয়ে এখন আর কিছু না বলি। এখন আমাদের মেয়ে খেলোয়াড়দের ওপর আরও বিনিয়োগ করতে হবে। তাদের পেছনে যত আমরা বিনিয়োগ করব— সময়, অর্থ, টেকনিক্যাল কোয়ালিটি দিয়ে— দেখা যাচ্ছে তারা কিন্তু সমপরিমাণ ফলাফল বাংলাদেশকে দিতে পারে।’
এজেড/এফএইচএম