বিশ্বকাপের আগে শেষ আন্তর্জাতিক বিরতি চলছে। এই সময়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার খেলার কথা ছিল স্পেনের বিপক্ষে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের ফিনালিসিমা বাতিল হয়েছে। দোহায় কাতারের বিপক্ষেও আলবিসেলেস্তেদের খেলার কথা ছিল। তারপর গুয়াতেমালার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি শেষ করত তারা। কিন্তু যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় এই দুটি ম্যাচও খেলতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। তবে বসে থাকছে না তারা। মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার সঙ্গে ঘরের মাঠে তারা বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচ খেলবে।
বিজ্ঞাপন
বুয়েন্স আয়ার্সের লা বোম্বোনেরায় বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোরে সোয়া ৫টায় মৌরিতানিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তিনটি ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছে মৌরিতানিয়া। এই ম্যাচের সূচি ঘোষণার পরপর অনেকে ভ্রু কুঁচকে ফেলেছিল। ফিফার ১১৫তম র্যাংকিংধারী দল এবং বিশ্বকাপে খেলার কোনো ইতিহাস যাদের নেই, তাদের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে আসলে কী অর্জন করবে র্যাংকিংয়ের তিনে থাকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা?
এই ম্যাচ নিয়ে কোনো উন্মাদনা নেই ফুটবল বিশ্বের ভক্তদের মনে। তাদের অনেকেই হয়তো বাজি ধরতে শুরু করেছে, মৌরিতানিয়ার জালে কয়বার বল ঢুকবে তা নিয়ে। উত্তেজনার চেয়ে এই ম্যাচ ঘিরে প্রশ্ন বেশি। কাগজে কলমে যে ম্যাচে কোনো সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, সেই ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনার প্রাপ্তি কী হতে পারে? উত্তর হতে পারে বিভিন্ন স্তরে– প্রস্তুতি থেকে কৌশলগত পরিকল্পনার মধ্যে। কিন্তু এই স্তরের প্রতিপক্ষকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিতর্ক তুলেছে।
বিজ্ঞাপন

মৌরিতানিয়ার স্তর নিয়ে কেন এত প্রশ্ন! তারা এমন একটি দল, যারা কখনো বিশ্বকাপে খেলেনি। উত্তরপশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ফিফায় যোগ দিয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে। প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচ খেলেছিল ১৯৬১ সালে। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের অন্যতম দুর্বলতর দলের তকমা মুছতে পারেনি তারা। ফিফা র্যাংকিং রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তারা নেমে গিয়েছিল ২০৬ নম্বরে। ওই সময়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি র্যাংকিংধারী দলের মধ্যে ছিল তারা। তাদের সেরা সাফল্য এসেছে বছরকানেক আগে। আফ্রিকান নেশন্স কাপে ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের টানা তিন আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল মৌরিতানিয়া। তিন বছর আগের আসরে শেষ ষোলোতেও উঠেছিল দলটি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও সুবিধার নয়। শেষ ছয় ম্যাচে কোনো জয় পায়নি, তিনটি হার ও তিনটি ড্র। সবশেষ ম্যাচে কুয়েতের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে। আক্রমণভাগেও নেই কোনো ধার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ১০ ম্যাচে মাত্র চার গোল!
জোর গলায় বলে দেওয়া যায়, বিশ্বের দ্বিতীয় র্যাংকিংধারী দলের বিপক্ষে মৌরিতানিয়া বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারবে না। তাহলে এই ম্যাচ কেন খেলা? উত্তর লুকিয়ে আছে প্রস্তুতির মধ্যে। স্কালোনির জন্য এই ম্যাচ ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র, খেলোয়াড় অদলবদলের সুযোগ করে দেবে। এছাড়া বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে সামর্থ্য প্রমাণের জন্য বেশ কিছু সময় পাবেন খেলোয়াড়রা।

আরও উত্তর আছে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে ঘরের দর্শকদের সামনে বিদায় সংবর্ধনা নেওয়ার সুযোগ পাবে আর্জেন্টিনা। লা বোম্বোনেরায় খেলে বিশেষ আবহে নিজেদের ঝালাই করে নিতে পারবে এবং শেষবার ঘরের দর্শকদের সঙ্গে একটা পুনর্মিলন হবে। ছন্দ ধরে রাখাটাও একটা বড় ফ্যাক্টর। বড় টুর্নামেন্টের আগে খেলার মধ্যে থাকাটা জরুরি, তাই প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও তাদের বিপক্ষে খেলে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক মেজাজ ধরে রাখা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
মৌরিতানিয়ার প্রেক্ষাপট থেকে, তাদের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব একেবারে ভিন্ন। যে দলে লিওনেল মেসির মতো তারকা, যারা কি না আবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন— এমন দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াই তো কঠিন। সেই দলের মুখোমুখি হওয়া নিঃসন্দেহে মৌরিতানিয়ার জন্য মাহাত্ম্যপূর্ণ।
এক কথায় আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচ হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের মহড়া। অন্যদিকে মৌরিতানিয়ার জন্য তাদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়– বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে এই স্তরের প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেললে কি আদর্শ প্রস্তুতি নিতে পারবে আর্জেন্টিনা?
এফএইচএম/
