এক উত্তাল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আফ্রিকান ফুটবল। সেনেগালের কাছ থেকে আফ্রিকান নেশন্স কাপের ট্রফি কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)। এই বিতর্কের মাঝে গতকাল (রোববার) পদত্যাগ করলেন কনফেডারেশনের মহাসচিব ভেরন মোসেঙ্গো-ওম্বা।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটির নেতৃত্বে আস্থার সংকট চলছে। অনেকেই নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে। এরই মাঝে মোসেঙ্গো-ওম্বা অবসর নেওয়ার কথা জানালেন।
সংস্থার বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স ৬৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মোসেঙ্গো-ওম্বা দায়িত্বে থাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে, এমনকি সিএএফ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
৬৬ বছর বয়সী মোসেঙ্গো-ওম্বা সিএএফ-এ বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কিছু কর্মী তার বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরির অভিযোগ এনেছিলেন। পরে তদন্ত শেষে সব ধরনের অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কঙ্গোলিজ বংশোদ্ভূত মোসেঙ্গো-ওম্বা সুইশ নাগরিক। সাবেক এই ফিফা কর্মকর্তা বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুও ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার লড়াইয়ে নামবেন তিনি।
মোসেঙ্গো-ওম্বা এক বিবৃতিতে লিখেছেন, মানুষকে একত্রিত ও শিক্ষিত করে এবং আশার সঞ্চার জাগায়– দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক পেশাদার ক্যারিয়ারে ফুটবলের এমন এক আদর্শ রূপ প্রচারের পর আমি আমার ব্যক্তিগত প্রজেক্টগুলোতে সময় দেওয়ার জন্য সিএএফ-এর সেক্রেটারি জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিছু মানুষ আমার ওপর কিছু সন্দেহ চাপিয়ে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, এখন যেহেতু আমি সেগুলো দূর করতে সক্ষম হয়েছি, তাই আমি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া এবং প্রশান্ত হৃদয়ে অবসর নিতে পারছি। আমি সিএএফ-কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ অবস্থায় রেখে যাচ্ছি।’
শেষে তিনি বলেন, ‘আমি সিএএফ প্রেসিডেন্ট ডক্টর প্যাট্রিস মোতসেপে, আমার টিম এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা আফ্রিকান ফুটবলের সত্যিকারের উন্নয়নে সাহায্য করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, এই অগ্রযাত্রা দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই হবে।’
এফএইচএম/
