খেলাকে আর স্বচ্ছ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে নিখুঁত করার লক্ষ্যে ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন প্রযুক্তির সংযোজন দেখা যায়। তেমনই এক প্রযুক্তি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। ক্লাব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওই প্রযুক্তির সমালোচনা নতুন কিছু নয়। নানা বিতর্কের জন্ম দেওয়া ভিএআর প্রযুক্তির বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের ৯১ শতাংশ সমর্থক।
বিজ্ঞাপন
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিএআর প্রযুক্তি প্রয়োগের পর একটি বার্ষিক জরিপ চালিয়েছে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ)। যেখানে এই পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে ফুটবল দর্শকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তুষ্টির কথা জানা গেছে। সংস্থাটির পরিচালিত জরিপে ৭ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। যাদের বেশিরভাগই খেলা দেখেন মাঠে।
জরিপে অংশ নেওয়া স্রেফ দুই শতাংশ ফুটবলভক্ত মনে করেন– ভিএআর ফুটবলকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। ৩ শতাংশ মানুষের মতে– ভিএআর প্রযুক্তির কারণে তুলনামূলক ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। কিন্তু ৯১ শতাংশ মানুষই ভিএআরের বিপক্ষে। এর মধ্যে ৮১ শতাংশ মানুষ ভিডিও প্রযুক্তি ছাড়া ম্যাচ দেখার পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন।

প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে ভিএআর–এর সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করার জন্য রেফারিদের স্টেডিয়ামের ভেতরে যোগাযোগের ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি পছন্দ করেন জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি মানুষ। তবে ভিএআর প্রোটোকলের অন্যান্য নতুন ঘোষিত সম্প্রসারণগুলো তারা অপছন্দ করার কথা জানিয়েছে। মাত্র ২১ শতাংশ এই মতের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, কর্নার কিক দেওয়া হবে কি না সেই বিষয়ে ভিএআর–এর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এই প্রক্রিয়াটি এবারের বিশ্বকাপে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, তা যাচাই করার পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেছেন অধিকাংশ সমর্থক।
বিজ্ঞাপন
ভিএআরের বিপক্ষে দর্শকদের এমন জোরালো অবস্থান খেলাটির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের প্রভাবিত করবে কিনা, তা একটি বিতর্কিত বিষয়। লিগ আয়োজকরা ভিএআর ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, খেলাটির সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোও এর পক্ষে। যদিও সম্প্রতি ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (ইফ্যাব) এ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে দুই বছরের একটি পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে, তারা অবশ্য পুরোপুরি ভিএআর বাতিলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী মার্ক বালিংহাম ইফ্যাবের এই পর্যালোচনাকে বর্ণনা করেছেন এভাবে যে, ‘আমরা কীভাবে ভিএআর–কে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারি এবং বড় সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নেওয়া ও খেলার গতি কমিয়ে না দেওয়ার মধ্যে যে ভারসাম্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, ভিএআরের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে– এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৬ শতাংশ মানুষ ‘ভিএআরে উপযুক্ত সময়ের মাঝে সমাধানে পৌঁছা যায়’ ধারণার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। এ ছাড়া ৯২ শতাংশ মানুষ একমত যে, ভিএআর গোল উদযাপনের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দকে নষ্ট করে দেয়। তবে গোল বিল্ডআপের সময় অফসাইড শনাক্তে ভিএআর ব্যবহারের পক্ষে ৫৬ শতাংশ দর্শক। সম্ভাব্য ফাউল যাছাইয়েও ৬০ শতাংশ মানুষ ভিএআরের প্রয়োগ চান।
বিজ্ঞাপন
এএইচএস
