আগের দুই আসর মিস করার পর এবারও বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিতের প্রথম সুযোগ হারিয়েছিল ইতালি। বাছাইপর্ব পেরোতে না পারায় তাদের এখন প্লে-অফ খেলতে হচ্ছে। যেখানে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রেখেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে ফেরার পথে ইতালির সামনে এখন শেষ বাধা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। আগামীকাল (মঙ্গলবার) জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্লে-অফ ফাইনালে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে আজ্জুরিরা।
কোচ জেন্নারো গাত্তুসো জেনিৎসার এই ম্যাচটিকে “এভারেস্ট” বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফেরানোর চাপ তার কাঁধে ভর করছে। মেগা ইভেন্টে ফিরতে মরিয়া ইতালি। যদি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে, গ্রুপ ‘বি’-তে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সহ-আয়োজক কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতার। ২০০৬ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে পিছিয়ে পড়া ইতালির জন্য এটি বড় সুযোগ।
গাত্তুসো বলেন, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত নন তিনি, বরং ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বসনিয়ার সেমিফাইনাল জয়ের পর ইতালির খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ফুল-ব্যাক ফেডেরিকো ডিমার্কোকে ক্যামেরায় দেখা যায়, কার্ডিফে ওয়েলসের বিপক্ষে বসনিয়ার জয়সূচক পেনাল্টির সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে।
বিজ্ঞাপন
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইতালির সাবেক গোলরক্ষক দিনো গফও সমালোচনা করে বলেন এমন আচরণ প্রতিপক্ষকে আরও উজ্জীবিত করবে। রোববার ডিমার্কো এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন। ইন্টার মিলানের এই তারকা বলেন, “আমি বসনিয়া বা তাদের জনগণের প্রতি অসম্মান দেখাইনি। অনেকে বলছে আমরা অহংকারী। কিন্তু তার কোনো কারণ নেই- আমরা তো গত দুই বিশ্বকাপে খেলতেই পারিনি।”
এই ছোট ঘটনাকে ঘিরে এত আলোচনাই ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তেজনার প্রতিফলন। ইতালীয় গণমাধ্যম এমনকি রেফারি ক্লেমেন্ট তুরপাঁর নিয়োগকেও অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। কারণ তিনি ২০২২ বিশ্বকাপে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে ইতালির পরাজয়ের ম্যাচে কোচের দায়িত্বে ছিলেন।
তবে কুসংস্কারের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিপক্ষ ও তাদের সমর্থকদের চাপ। বসনিয়ার অধিনায়ক এডিন জেকো ৪০ বছর বয়সেও তার দক্ষতা দেখিয়েছেন। ইতালির রোমা ও ইন্টার মিলানে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। তার সঙ্গে খেলতে পারেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড কেরিম আলাজবেগোভিচ, যিনি সামার ট্রান্সফারে বায়ার লেভারকুসেনে যোগ দেবেন। সেমিফাইনালে জেকোর গোলটি তিনিই এ্যাসিস্ট করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
জেকো বলেন, “ইতালির বিপক্ষে কে ফেভারিট বলা কঠিন। আমরা ঘরের মাঠে খেললেও তারা অবশ্যই ফেভারিট। এটা শুধু আমার জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্যও অনেক বড় কিছু হবে। দলে অনেক গুণসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে এবং তাদের ক্যারিয়ারের জন্যও এটি অসাধারণ হবে। আশা করি আমরা তা অর্জন করতে পারব।”
