বিজ্ঞাপন

ইউরোপ থেকে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ– শেষ ৬ দল কারা, চূড়ান্ত হচ্ছে রাতে

অ+
অ-
ইউরোপ থেকে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ– শেষ ৬ দল কারা, চূড়ান্ত হচ্ছে রাতে

আসন্ন বিশ্বকাপে ৪২টি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আর বাকি ছয়টি দল। আজ রাতেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে সেই দলগুলো কারা। ইউরোপ থেকে চারটি ও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ থেকে দুটি দল কাটবে বিশ্বকাপের টিকিট। বিশেষ করে ইতালি ও বসনিয়ার ম্যাচটি নিয়ে কৌতূহল থাকছে। এই প্লে অফেই গত দুই আসরে হৃদয় ভেঙেছিল ইতালির, এবার কি আজ্জুরিরা পারবে সেই ব্যর্থতা কাটাতে?

বিজ্ঞাপন

ইউরোপ 

বিজয়ী দল ‘বি’ গ্রুপে (কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড)

বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বনাম ইতালি (জেনিকা, বসনিয়া): 

বিজ্ঞাপন

কার্ডিফে ওয়েলসের বিপক্ষে এডিন ডেকোর ৮৬তম মিনিটের গোলে সেমিফাইনালে প্রাণ ফিরে পায় বসনিয়া। ম্যাচটি গড়ায় শুটআউটে, যেখানে ৪-২ গোলে জেতে সার্গেজ বারবারেজের দল। ফাইনালে বসনিয়াকে জেতাতে পারলে ম্যানসিটি, এসি রোমা ও ইন্টার মিলানের ৪০ বছর বয়সী সাবেক স্ট্রাইকার ডেকো হবেন বিশ্বকাপের অন্যতম বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড়। কিন্তু তার সামনে ইতালি বড় বাধা।

বারগামোতে গেনারো গাত্তুসোর দল বৃহস্পতিবারের সেমিফাইনালের শুরুতে চাপে ছিল। শেষ পর্যন্ত নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ইতালি। আগের দুই আসরে প্লে অফে হৃদয় ভাঙার গল্পের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর শেষ সুযোগ তাদের সামনে।

ঘরের মাঠ হওয়ায় এই ম্যাচে বসনিয়া সুবিধা পাবে বেশি। তাই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা, সান্দ্রো তোনালি ও মানুয়েল লোকাতেল্লিদের। ১২ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা পেতে তাদের দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা।

বিজ্ঞাপন

বিজয়ী দল এফ গ্রুপে (নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া)

সুইডেন বনাম পোল্যান্ড (স্টকহোম, সুইডেন):

ভিক্তর গিয়োকেরেস একা হাতে সুইডেনকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তার হ্যাটট্রিকে ভ্যালেন্সিয়াতে ইউক্রেনকে ৩-১ গোলে হারায় সুইডিশরা। কোয়ালিফায়ারে জয়খরায় থাকা দলটি আর একটি ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপে উঠবে। এজন্য পার হতে হবে পোল্যান্ডের বাধা।

ওয়ারশে আলবেনিয়ার বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতে পোল্যান্ড। সাম্প্রতিক ফর্ম পোল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছে। কিন্তু সুইডেন খেলবে ঘরের মাঠে এবং ইউক্রেনের বিপক্ষে বড় জয় আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশা করা হচ্ছে।

বিজয়ী দল ডি গ্রুপে (যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া)

কসোভো বনাম তুরস্ক (প্রিস্তিনা, কসোভো):

রোমানিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের সেমিফাইনালে প্রত্যাশিত ফল এসেছে। ভিনসেঞ্জো মনতেল্লার দল ১-০ গোলে জিতেছে ফের্দি কাদিওগলুর গোলে। অন্যদিকে কসোভো স্লোভাকিয়ার মাঠে জেতে ৪-৩ গোলে। প্রতিযোগিতায় এখনো টিকে থাকা ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন র‌্যাংকিংধারী তারা। 

৭৮তম স্থানে থাকা এই কসোভো তরুণ, সাহসী এবং গতি ও শক্তিতে ভরপুর। আর্দা গুলার, হাকান কালহানগলু ও কেনান ইয়িলদিজের তুরস্ককে চমকে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের আছে। যদিও দুই দলের আগের দেখায় দুইবারই জিতেছিল তুরস্ক এবং ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। তবে ঘরের মাঠ হওয়ায় কসোভো কিছুটা এগিয়ে থাকবে।

বিজয়ী দল এ গ্রুপে (মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা)

চেক রিপাবলিক বনাম ডেনমার্ক (প্রাগ, চেক রিপাবলিক):

প্রাগে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল চেক রিপাবলিক। কিন্তু মিরোস্লাভ কুবেকের দল ঘুরে দাঁড়িয়ে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে জেতে।

চেকদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। কোপেনহেগেনে ৪-০ গোলে নর্থ মেসিডোনিয়াকে হারিয়ে তাদের সামনে দাঁড়াচ্ছে ডেনমার্ক। ফাইনালে তারা নামছে ফেভারিট হিসেবে। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে হবে বলে কিছুটা চাপ থাকা স্বাভাবিক।

আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফ

বিজয়ী দল কে গ্রুপে (পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া)

কঙ্গো ডিআর বনাম জ্যামাইকা (জাপোপান, মেক্সিকো):

র‌্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা নিউ ক্যালেডনিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছিল জ্যামাইকা। ডিআর কঙ্গোকে হারাতে হলে তাদেরকে খেলার মান আরও কয়েক গুণ বাড়াতে হবে।

‘নিরক্ষীয় অঞ্চলের যোদ্ধা’ নামে পরিচিত কঙ্গোর আছে শীর্ষ পর্যায়ের ইউরোপিয়ান অভিজ্ঞতা। তাদের অ্যারন ওয়ান বিসাকা, আর্থার  মাসুয়াকা, ইওনে ভিসা ও অধিনায়ক চানসেল এমবেম্বার আছে ইউরোপিয়ান ক্লাবে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা। এই শক্তিশালী আফ্রিকান প্রতিপক্ষকে হারাতে হলে সেরার চেয়েও ভালো কিছু করে দেখাতে হবে জ্যামাইকাকে।

বিজয়ী দল আই গ্রুপে (ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে)

ইরাক বনাম বলিভিয়া (গুয়াদালুপ, মেক্সিকো):

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে ইরাকের প্লে অফ প্রস্তুতিতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। এই অঞ্চলের আকাশপথ সীমিত হয়ে পড়ায় ম্যাচটি স্থগিতের আহ্বান করেছিলেন ইরাক কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। কিন্তু আজকের ম্যাচ হচ্ছে এবং পুরো দল নিয়ে মেক্সিকোতে বেসরকারি বিমানে যেতে হয়েছে দলকে। 

মাঠের বাইরের ঘটনা সম্ভবত দলের ওপর প্রভাব ফেলছে। বলিভিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে তাদের। পিছিয়ে পড়েও সুরিনামকে হারিয়ে বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত আছে দক্ষিণ আমেরিকান দেশটি। অন্যদিকে ডিসেম্বরের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেনি ইরাক। তাই এই ম্যাচ জিততে ঘাম ছুটবে তাদের। এখন দেখার অপেক্ষা, ৪০ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানোর তাড়না তাদের অনুপ্রাণিত করে কি না।

এফএইচএম/