আন্তর্জাতিক বিরতির আগে-পরে দুটি শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেল আর্সেনাল। কারাবাও কাপ ফাইনালে ম্যানসিটির কাছে হারার পর এফএ কাপ কোয়ার্টার ফাইনালেও পরাজিত হলো তারা। সুপার সাব শিয়া চার্লসের গোলে সাউদাম্পটন সেমিফাইনালের টিকিট কাটল। ২-১ গোলে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দলকে চমকে দিলো টোন্ডা একার্টের চ্যাম্পিয়নশিপ দল।
বিজ্ঞাপন
চোট জর্জর দল নিয়েও ফেভারিট হিসেবে সেন্ট ম্যারিতে পা রেখেছিল মিকেল আর্তেতার দল। কিন্তু চার্লসের গোলে তাদের ট্রেবলের স্বপ্ন ভেঙে গেল। রস স্টুয়ার্ট লিড এনে দেন সাউদাম্পটনকে। পরে ভিক্টর গিওকেরেস সমতা ফেরান। কিন্তু ম্যাচ ঘুরে যায় সাউদাম্পটনের দিকে। বদলি নামার ৯ মিনিট পর গানারদের জাল কাঁপিয়ে দলকে জেতান চার্লস।
চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়েম্বলিতে হবে সেমিফাইনাল। চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে অফের দলটির আশা, দ্বিতীয় সারির সাউদাম্পটনের ১৯৭৬ সালের এফএ কাপ জয়ের কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারবে তারা। অন্যদিকে চলতি মৌসুমের পঞ্চম হার দেখা আর্সেনাল টানা দুটি কাপ ম্যাচে হারের পর আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা খেল। ৯ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে থেকে তারা এখন স্বপ্ন দেখছে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের।
বিজ্ঞাপন
আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে শুরু হয় ম্যাচ। স্বাগতিক খেলোয়াড় লিও শিয়েনজা পেনাল্টির আবেদন করেন গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের বিরুদ্ধে। ১৬ বছর বয়সী ম্যাক্স ডোম্যানের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারপর টেলর হারউড-বেলিস হেড করে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির একটি প্রচেষ্টা মাঠের বাইরে পাঠান।

সাউদাম্পটন আর্সেনালের ওপর চাপ ধরে রাখে। শিয়েনজার ১৮তম মিনিটে গোল করা উচিত ছিল। গ্যাব্রিয়েল সময়মতো লাফ দিতে পারেননি, বল পেয়ে যান ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। শুট করার পরিবর্তে কেপা আরিজাবালাগাকে কাটিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। সুযোগ বুঝে ক্রিস্টিয়ান মসকুয়েরা তাকে প্রতিহত করেন।
এরপর আর্সেনাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ২০ গজ দূর থেকে মার্টিন ওডেগার্ডের একটি শট রুখে দেন ড্যানিয়েল পেরেজ। তারপর আরেকটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন। ডোম্যান ও কাই হ্যাভার্জও সুযোগ তৈরি করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সেইন্টরা এলেমেলো হলেও আর্সেনালের ভুলে গোলমুখ খোলে। প্রতিপক্ষের এলাকায় ওডেগার্ডের ব্যাকহিলে বল পেয়ে যান শিয়েনজা। তিনি বল বাড়ান জেমস ব্রির কাছে। এই রাইট ব্যাক যথেষ্ট সময় নিয়ে দূরের পোস্টে ক্রস দেন। বেন হোয়াইট বলের গতিপথ বুঝতে পারেননি। স্টুয়ার্ট বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জাল কাঁপান।
৩৫তম মিনিটের গোল সেন্ট ম্যারিতে উন্মাদনা তৈরি করে। গোল খাওয়ার পর বিরতির আগে আর্সেনাল তেমন সুবিধা করতে পারেনি। খেলা পুনরায় শুরু হলে ডোম্যানের একটি ড্রাইভ নস্যাৎ করে দেন রায়ান ম্যানিং। সেইন্টরাও কিছু ক্রসে গানারদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। আর্সেনালও নিজেদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মসকুয়েরার একটি আলগা পাসে টম ফিলোস গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন।
সাউদাম্পটন দ্বিতীয় গোলের বেশ কাছে ছিল। শিয়েনজা বক্সের ভেতরে ডানে ঢুকে শট নেন, কিন্তু বল লাগে ক্রসবারে। এর কিছুক্ষণ আগে আর্তেতা তিনটি পরিবর্তন আনেন দলে। তাদের একজন ৬৮তম মিনিটে সমতা ফেরান। গ্যাব্রিয়েল দারুণভাবে হ্যাভার্জকে বল দেন। তিনি একবার বল ছুঁয়ে পেছনে গিয়োকেরেসকে দিয়ে সমতা ফেরান।
গ্যাব্রিয়েল চোট নিয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়লে আর্সেনাল উইলিয়াম সালিবাকে নামাতে বাধ্য হয়। সময়ের সঙ্গে স্বাগতিকরাও কোণঠাসা হতে থাকে। ডোম্যানের একটি বাঁকানো শট বেশ ভালোভাবে থামান পেরেজ। মার্টিনেল্লির একটি ড্রাইভ গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। মুহুর্মুহু আক্রমণে আর্সেনাল জয়সূচক গোলের অপেক্ষা করছিল।

চ্যাম্পিয়নশিপ দল যে সেমিফাইনালে উঠবে, তা খুব কম লোকই ভেবেছিল। কিন্তু সেইন্টরা চমকে দিলো। ৮৫তম মিনিটে ঠাণ্ডা মাথায় জালে বল ঠেলে দেন চার্লস। ননি মাদুয়েকে ও রিকার্ডো কালাফিওরি খুব চেষ্টা করেছিলেন সমতা ফেরাতে। কিন্তু আর্সেনাল পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে চেলসি। শেষ অর্ধে আরও চারটি। জোরেল হাতো দ্বিতীয় মিনিটে গোলমুখ খোলেন। জোয়াও পেদ্রোর ২৫ মিনিটের গোলে স্কোর ২-০। জর্ডান লরেন্স গ্যাব্রিয়েলের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় চেলসি।
টসি আদারাবায়ো ৫৭ মিনিটে দলের চতুর্থ গোল করেন। আন্দ্রে সান্তোস ৬৯ মিনিটে জাল কাঁপান। ৮২ মিনিটে এস্তেভাও লক্ষ্যভেদ করেন। সপ্তমবার চেলসি জাল কাঁপায় আলেজান্দ্রো গারনাচোর শটে।
এফএইচএম/
