সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান। টাইব্রেকারে তার নেয়া শেষ শটের গোলেই বাংলাদেশ শিরোপা উল্লাস করে।
বিজ্ঞাপন
মালদ্বীপ থেকে গতকাল রাতে দেশে ফিরেছেন সাফজয়ীরা। আজ ঢাকা পোস্টের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার আরাফাত জোবায়েরের সঙ্গে সাফ টুর্নামেন্ট, নিজের ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন রোনান।
টাইব্রেকারের আপনার সেই গোলের পর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ও শিরোপা উল্লাস হয়েছে। টাইব্রেকারের শেষ শট বরাবরই বেশ চাপের। শট নেয়ার আগের মুহুর্তটা কেমন ছিল?
রোনান: অবশ্যই চাপ ছিল। এই শটে গোল না হলে আবার সাডেন ডেথ। খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত। আমি নিজেকে খুবই ধীর-স্থির রেখেছি। পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছিলাম।
বিজ্ঞাপন
টাইব্রেকার কিংবা পেনাল্টিতে পানেনকা শট খুবই বিখ্যাত। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে এই শটে যেমন গোল করা সহজ আবার অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণও। গোলরক্ষক দাঁড়িয়ে থাকলে সোজা তার গায়ে কিংবা গ্রিপে। পানেনকা শট নেয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন?
রোনান: হামজা বাংলাদেশের (ঢাকায় নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে) হয়ে পানেনকা শটে গোল করেছিল। সেটা মনে করেই উৎসাহিত হয়েছিলাম। আগের চারটি শটই গতিময় ছিল এবং গোলরক্ষক ডাইভ দিয়েছে। কিছুটা বৈচিত্র্য ও বিকল্প আনতে পানেনকা নিয়েছিলাম।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের হয়ে আপনার অভিষেক গোলটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। ৩৫ গজের বেশি দূর থেকে ফ্রি কিকে দুর্দান্ত শটে গোল করেছেন। আপনার সেই গোলকে সাফ অ-২০ টুর্নামেন্ট সেরা গোলও বলছেন অনেকে...
রোনান: প্রতিটি গোলই মূল্যবান। আমার কাছে টাইব্রেকারের গোলটিই সেরা। কারণ ঐ গোলের জন্য বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এবং ট্রফি পেয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঢাকায় আসার পরপর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরে আপনাদের অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ছাদখোলা বাসে আপনাদের হাতিরঝিলে নেয়া হয়েছে। সেখানে আলো ঝলমলে পরিবেশে সংবর্ধনা কেমন লাগল এবং আপনার বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া কী?
রোনান: সত্যিই আমরা চিন্তা করিনি এত বড় আয়োজন বা সম্মান জানানো হবে। আমরা খুবই খুশি এবং আমাদের বাবা-মাও দারুণ উচ্ছ্বসিত।
হামজা চৌধুরি পানেনকা শটে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছিলেন অক্টোবর মাসে ঢাকায় প্রীতি ম্যাচে। বাংলাদেশ দলের খেলা আপনি অনুসরণ করতেন আগে থেকেই?
রোনান: বাংলাদেশের সমর্থকদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। হামজা চৌধুরি আসার পর বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা অনেক বাড়ে। বাংলাদেশের কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি।
জন্মস্থান না হলেও বাবা-মায়ের সূত্রে অনেকে বাবা-মায়ের দেশের হয়ে খেলেন। নানীর মাধ্যমে আপনারা দুই ভাই বাংলাদেশে খেলছেন এবং এত সমর্থন পাচ্ছেন। কতটা উপভোগ করছেন?
রোনান: বাংলাদেশে খেলার পেছনে আমাদের নানীর অবদান অনেক। সমর্থক, ফেডারেশনও আমাদের অনেক অনুপ্রাণিত ও সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ফুটবল ভালোবাসে। আমাদের তারা বেশ আপন করে নিয়েছে। খুব ভালো লাগছে। কোচিং স্টাফরাও আমাদের সহজ করে নিয়েছে।
বাংলাদেশ সিনিয়র ফুটবল দলে মূল সমস্যা স্কোরিং। সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে আপনার স্কোরিং দক্ষতায় সবার প্রত্যাশা সিনিয়র দলেও আপনি বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেবেন...

রোনান: আমি গোল করতে ভালোবাসি, সেটা ক্লাব কিংবা জাতীয় দল যেখানেই হোক। বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেলে অবশ্যই গোল করতে চাই এবং দলকে জেতাতে চাই। আমি সিনিয়র দলে খেলার আশা রাখি।
আপনারা দুই ভাই মালদ্বীপ যাওয়ার কিছু দিন আগে ঢাকায় এসেছেন। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশের অনেক দূরত্ব। আবহাওয়া, খাবার, ভাষা নানা প্রতিবন্ধকতা দ্রুত মানিয়ে নিলেন কীভাবে?
রোনান: আমরা বাংলা বলতে পারি না। তাই ইব্রাহিমের (ইংল্যান্ড প্রবাসী) সঙ্গে একটু বেশি আলাপ-আলোচনা হয়। অন্য সবাই আমাদের সাথে বেশ আন্তরিকতার সাথে মিশেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই টিমমেটদের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক হয়েছে।
সাফ টুর্নামেন্টে আপনি চার ম্যাচই পুরো সময় খেলেছেন। আপনার ভাই ফাইনালেই সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার মতো খেলতে পেরেছেন। আপনি খেলছেন আপনার ভাই কম সুযোগ পাচ্ছে এটা নিয়ে চিন্তা করতেন নাকি?
রোনান: একটু চিন্তা হতোই, ফুটবলে এ রকম হবেই। সেও সুযোগ পেয়েছে এবং ভালোই করেছে।
ফাইনালে আপনার শটেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। ঐ দিন ম্যাচের শেষ দিকে ডেকলানের পাসে আপনি বক্সে গোল করার মতো পজিশনে বল পেয়েছিলেন। সেমিফাইনালেও ডেকলান আপনাকে ভালো বল দিয়েছিল ম্যাচের শেষ দিকে। ভাইয়ের অ্যাসিস্টে গোল পেলে টুর্নামেন্টটা আপনার জন্য আরো পরিপূর্ণ হতো কি?
রোনান: সেটা হলে অবশ্যই আরো সুন্দর হতো। সব কিছু আসলে সব সময় হয় না। এই টুর্নামেন্ট যা হয়েছে বা পেয়েছি এতে সন্তুষ্ট। সামনে আশা করি ডেকলানের পাসে গোল করব।
আপনারা চার ভাই-ই ফুটবলার। চার ভাইয়ের মধ্যে তিন দেশের হয়ে খেলার সম্ভাবনা প্রবল। এটা তো বিশ্ব ফুটবলে একটি বিশেষ ঘটনা হতে যাচ্ছে...

রোনান: আমার বাবা ফুটবলার ছিলেন। বাবার মাধ্যমেই ফুটবল আমাদের রক্তে। মা ফুটবলার হতে সহায়তা করেছেন। তাই আমরা চার ভাই ফুটবলার হয়েছি। বড় ভাই কুইন আমেরিকার হয়ে খেলেছেন। আমরা বাংলাদেশে খেললাম, কাভানও একটি দেশের হয়ে খেলবে প্রত্যাশা করছি।
আমেরিকায় বিশ্বাকপ ফুটবল কয়েক মাস পরেই। আপনাদের ফিলাডেলফিয়া শহরেই বিশ্বকাপের একটি ভেন্যু। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবল মূলত দক্ষিণ এশিয়া কেন্দ্রিক। সাফ চ্যাম্পিয়ন এই দলের এশিয়ান পর্যায়ে সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
রোনান: কালকের অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে সামনে এএফসি অ-২০ টুর্নামেন্টের বাছাই রয়েছে। সেই টুর্নামেন্টে মূল পর্বে খেলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেয়া দরকার। আমি মনে করি এই দলের সেই সামর্থ্য রয়েছে।
এজেড/এইচজেএস
