দিন পাঁচেক পরেই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হচ্ছে। সারা বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এখন বিশ্বকাপ। সেই মুহূর্তে বাংলাদেশ ফুটবল দলও জুন উইন্ডোতে ব্যস্ত সময় পার করছে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টায় সান মারিনোর মুখোমুখি হবে। যা ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।
গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন হয়েছিল। সেই সম্মেলনে বাংলাদেশের নতুন হেড কোচ থমাস ডুলি এসেছিলেন। আজকের ম্যাচ দিয়ে তার বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হচ্ছে। সান মারিনোর ফিফা র্যাঙ্কিং ২১১। বাংলাদেশ ৩০ ধাপ এগিয়ে ১৮১।
এরপরও বাংলাদেশের কোচ নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘তাই র্যাঙ্কিংয়ের একেবারে তলানিতে থাকাটা বাস্তবে তাদের আসল অবস্থার প্রতিফলন নয়। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে, আমরা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের চেয়ে ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে থাকলেও এখানে এক অর্থে আমরাই আন্ডারডগ। কারণটা হলো, বিশ্বের অন্যান্য নিচু সারির দলগুলো যে ধরনের দলের সাথে খেলার সুযোগ পায়, তারা তা পায় না। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে তাদের জার্মানি এবং ওই মানের বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হয়, যাদের বিপক্ষে আমরাও খেলতে চাইব না।'
সান মারিনোর বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনে। বাংলাদেশের নতুন কোচ বাস্তবতার নিরিখে এক পয়েন্ট পেলেও অখুশি হবেন না, ‘সত্যি কথা বলতে কী, যদি আমরা এখান থেকে এক পয়েন্টও অর্জন করতে পারি, তাহলেও আমি খুশি হব। তাই ব্যাপারটা শুধু র্যাঙ্কিংয়ের নয়। পরিসংখ্যান বা ডেটা সবসময় খেলার আসল চিত্র তুলে ধরে না। আমি মনে করি, এখান থেকে একটি ভালো ফলাফল বের করে আনাটা আমাদের জন্য দারুণ কিছু হবে এবং আমরা সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকব। আমরা যে র্যাঙ্কিংয়ের একেবারে তলানির কোনো দলের বিপক্ষে খেলছি, বিষয়টা এমন নয়। আমরা একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলছি, যাদের প্রায় শীর্ষ ১০০-এর মধ্যে থাকা দলগুলোর বিপক্ষেও ভালো খেলার রেকর্ড রয়েছে। এটি আসলেই অনেক বড় একটি ব্যাপার।’
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউরোপের দলের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতে খেলছে। বাফুফে বড় একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে বাংলাদেশ দল সান মারিনো পৌছেছে ভ্রমণ ক্লান্তি নিয়ে। ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে পূর্ণ স্কোয়াড পেয়েছেন কোচ। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই ফ্যাক্টগুলোও তুলে ধরেছেন ডুলি, ‘৭ ঘণ্টার ফ্লাইটে আফ্রিকা হয়ে আসতে হয়েছে, তারপর ৬ ঘণ্টার ট্রানজিট, এখানে পৌঁছানোর জন্য আরও ৬ ঘণ্টার ফ্লাইট, এরপর ইতালিতে নেমে বাসে করে আরও ৬ ঘণ্টার জার্নি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এটি শারীরিক দিক থেকে কতটা কঠিন একটা ধকল, যার মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে। এখন আমাদের রিকভারি করতে হবে, ছোট ছোট ট্রেনিং সেশন করতে হবে। আমরা এমন কোনো অবস্থায় নেই যে দুই, তিন বা চার সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিতে পারব। পুরো দলটা হয়তো মাত্র দু'দিন ধরে একসাথে আছি। আর বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা এক সপ্তাহ অনুশীলন করেছি। তাই সবকিছুই কঠিন হবে।'
সান মারিনোর ফুটবলার নিয়ে বাংলাদেশ কোচের বিশ্লেষণ,'তারা শারীরিকভাবে শক্তিশালী, লম্বা, ভালো খেলোয়াড় এবং যথেষ্ট ফিটও। শারীরিকভাবে সরাসরি একজন-বনাম-একজন শারীরিক সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে হবে। আপনাকে বল মুভ করতে হবে বা দ্রুত পাস দিতে হবে এবং নিজের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা মনে করছি এমন কিছু কৌশল আমাদের জন্য কাজে আসতে পারে এবং আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি। আমরা দেখব এটি কাজ করে কি না। যদি কাজ না করে, তবে আমাদের কোনো শক্তিশালী বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতোই জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে হবে'-বলেন ডুলি।
এজেড/এফআই
