World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

আলমাদা খেলেছেন সবচেয়ে কম সময়, আর্জেন্টিনার কে খেলেছেন বেশি?

আলমাদা খেলেছেন সবচেয়ে কম সময়, আর্জেন্টিনার কে খেলেছেন বেশি?

আর ১১ দিন পর শুরু হবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তারা প্রথম ম্যাচ খেলবে। এই সময়ের মধ্যেই কোচ লিওনেল স্কালোনি তার শুরুর লাইনআপ চূড়ান্ত করবেন। ইনজুরির কারণে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন করতে হতে পারে। কিন্তু দল গুছিয়ে নিতে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিবেচনা করবেন, কারা মাঠে বেশি সক্রিয় ছিলেন, আর কে সীমিত সময় খেলেছেন।

সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের প্রথম গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন এনজো ফার্নান্দেজ। ২৫ বছর বয়সী চেলসির এই মিডফিল্ডার সম্ভবত সবচেয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে বিশ্বকাপে যোগ দিচ্ছেন। পুরো মৌসুম জুড়েই তিনি তার ক্লাবের নিয়মিত শুরুর একাদশে ছিলেন এবং একজন মূল খেলোয়াড় হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ এবং এফএ কাপ মিলিয়ে তিনি মোট ৫৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৫টি গোল করেছেন। মাঠের লড়াইয়ে তিনি প্রায় ৪,৩৭৯ মিনিট সময় কাটিয়েছেন এবং কোচ লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য একজন অপরিহার্য খেলোয়াড় হয়ে উঠছেন।

এদিকে, এই তালিকায় থাকা আরেকজন খেলোয়াড় হলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। ৩৮ বছর বয়সেও এই ডিফেন্ডার আগের মতোই ধারালো আছেন, যিনি সম্প্রতি রিভার প্লেটের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন এবং বিশ্বকাপের পর দলে যোগ দেবেন। 

বেনফিকার সঙ্গে নিজের শেষ মৌসুমে তিনি অধিনায়ক এবং মূল খেলোয়াড় ছিলেন; খেলছেন শীর্ষ পর্যায়ে। এটাই তাকে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে দিয়েছে। পর্তুগিজ ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা ওতামেন্দি ৪৯টি ম্যাচে ৪,৩১৪ মিনিট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে আসছেন।

সর্বশেষে, দক্ষিণ আমেরিকায় খেলা একজন খেলোয়াড়ের কথা বলতেই হবে, তিনি হলেন হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। পালমেইরাসের এই স্ট্রাইকার গোলদাতা এবং ক্লাবের প্রধান তারকা হিসেবে তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। পাশাপাশি গত এক বছরে তিনি সবচেয়ে সক্রিয় খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন, কারণ ব্রাজিলের ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র ও ঠাসা সূচির জন্য পরিচিত। শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই তিনি ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন—যা ইন্টারের স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজের চেয়ে মাত্র ৭টি ম্যাচ কম, যার সাথে তিনি মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

অন্যদিকে, এমন কিছু খেলোয়াড়ও আছেন যারা তুলনামূলকভাবে কম সময় খেলার সুযোগ পেয়েছেন। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের ব্যাকআপ গোলরক্ষক হুয়ান মুসোকে বাদ দিলে সবচেয়ে কম সময় খেলেছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টার ব্যাক স্কালোনির জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন বলেই আশা করা যায়। তবে গত বছর বাঁ-হাঁটুতে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে তিনি মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারেননি এবং গত মৌসুমে মাত্র ১৯টি ম্যাচ (১৩১০ মিনিট) খেলতে পেরেছেন।

রিয়াল বেতিসের ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। পেশির চোটের কারণে পুরো ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাস তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। ফলস্বরূপ, রোজারিওতে জন্ম নেওয়া এই তারকা ৩২টি ম্যাচে ১,৭৭৭ মিনিট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই বিশ্বকাপে আসছেন। তা সত্ত্বেও, স্কালোনির তার ওপর গভীর আস্থা রয়েছে। চোটের কারণে কাতারে খেলতে না পারলেও তিনি পুরোটা সময় ছিলেন এবং এবার তার আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ থাকছে।

সবশেষে বলা যায় থিয়াগো আলমাদার কথা। ছোটখাটো চোটে ভুগছিলেন তিনি। পাশাপাশি অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে কোচ ডিয়েগো সিমিওনে তাকে মূলত একজন বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করায় তিনি খেলার সুযোগ কম পেয়েছেন। ভেলেজ সার্সফিল্ড একাডেমির এই প্রতিভাবান ফুটবলার মাদ্রিদ ক্লাবে নিজের সেরাটা মেলে ধরতে বা জাতীয় দলের মতো পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। তিনি মূলত বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ৪০টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১,৭০৪ মিনিট মাঠে ছিলেন। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ফর্ম বেশ ভালো এবং বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এফএইচএম