২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে পঞ্চমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে ইকুয়েডর। একঝাঁক তরুণ তারকার ওপর ভর করে ইকুয়েডরিয়ানরা দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ঠিক পরেই থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। প্রিলিমিনারি রাউন্ডের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই তাদের উত্তর আমেরিকার মূল পর্বের সরাসরি টিকিট এনে দিয়েছে।
ইকুয়েডরের প্রধান কোচ: সেবাস্তিয়ান বেকেসেস
হতাশাজনক কোপা আমেরিকার পর ডাগআউটে পরিবর্তন আসে। আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকেসেস ইকুয়েডরকে বাছাইপর্বে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। মোয়েসেস কাইসেডো ও উইলিয়ান পাচোর মতো ইউরোপের বড় মঞ্চে আলো ছড়ানো এক নতুন প্রজন্মের ওপর ভিত্তি করে ‘লা ট্রি’-রা এবার বড় স্বপ্ন দেখছে; বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে না পারার আক্ষেপ এবার তারা ঘুচাতে চায়।

ফেলিক্স সানচেজের স্থলাভিষিক্ত হওয়া বেকেসেস ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছেন। তার অধীনে ইকুয়েডর বাছাইপর্বের শেষ ১১টি ম্যাচের মধ্যে ৫টি জয় এবং ৬টি ড্র করেছে, যার মধ্যে কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এই ১১ ম্যাচে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে, যা তাদের রক্ষণাত্মক দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের সূচি
১৪ জুন: আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর — ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
২০ জুন: ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও — কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
২৫ জুন: ইকুয়েডর বনাম জার্মানি — নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম
ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: কনমেবল
সেরা সাফল্য: রাউন্ড অব সিক্সটিন (২০০৬)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ২০২২
প্রথম বিশ্বকাপ: ২০০২
অংশগ্রহণ: ৫ বার (২০০২, ২০০৬, ২০১৪, ২০২২, ২০২৬)
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ ১৩, জয় ৫, ড্র ২, হার ৬, গোল করেছে ১৪, গোল খেয়েছে ১৪।
ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৪তম।

ইকুয়েডরের প্রথম বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের ইতিহাসের ৭২ বছর পর ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান আসরে প্রথমবার সুযোগ পায় ইকুয়েডর। বাছাইপর্বে তারা ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো দলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় হয়েছিল। মূল পর্বে ইতালি ও মেক্সিকোর কাছে হারলেও শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি ছিল তাদের বিশ্বকাপের প্রথম জয়। এডিসন মেন্দেজ সেই ঐতিহাসিক গোলটি করেছিলেন।
ইকুয়েডরের সর্বশেষ বিশ্বকাপ
রাশিয়া ২০১৮-তে জায়গা না পাওয়ার পর গুস্তাভো আলফারোর অধীনে কাতার ২০২২-এ ফিরে আসে ইকুয়েডর। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে এনার ভ্যালেন্সিয়ার জোড়া গোলে তারা স্বাগতিক কাতারকে ২-০ ব্যবধানে হারায়। দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ১-১ ড্র করে সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেও, শেষ ম্যাচে সেনেগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়।
বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা
এনার ভ্যালেন্সিয়া বর্তমানে ইকুয়েডরের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০২২ আসরের গোলগুলোর মাধ্যমে তিনি অগাস্টিন ডেলগাডোকে (৩ গোল) ছাড়িয়ে যান। বিশ্বকাপে ভ্যালেন্সিয়ার মোট গোল সংখ্যা এখন ৬টি, ২০১৪ সালে এবং ২০২২ সালে তিনটি করে। ২০২৬ আসরে তিনি এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
এডিসন মেন্দেজ ইকুয়েডরের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ২০০২, ২০০৬ এবং ২০১৪—এই তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ৬টি ম্যাচ খেলা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০২৬ সালে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জয়
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়টি এখন পর্যন্ত ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জয়। তেনোরিও, ডেলগাডো ও কাভিয়েদেসের গোলে পাওয়া সেই জয়টি তাদের ইতিহাসে প্রথমবার ও এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছে দিয়েছিল।
ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক- হেরনান গালিন্দেস, গনসালো ভাল্লে, মোইসেস রামিরেস
ডিফেন্ডার- পিয়েরো হিনকাপিয়ে, উইলিয়ান পাচো, পেরভিস এস্তুপিনিয়ান, অ্যাঞ্জেলো প্রেসিয়াদো, জোয়েল অর্দোনিয়েজ, ফেলিক্স তোরেস, জ্যাকসন পোরোজো, ইয়াইমার মেদিনা
মিডফিল্ডার- মোইসেস কাইসেদো, অ্যালান ফ্রাঙ্কো, গনসালো প্লাতা, কেন্দ্রি পায়েস, পেদ্রো ভিতে, জর্ডি আলসিভার, ডেনিল কাস্তিলো, জন ইয়েবোয়া, নিলসন আঙ্গুলো, অ্যালান মিন্ডা
ফরোয়ার্ড- এন্নার ভালেন্সিয়া, কেভিন রদ্রিগেজ, জর্ডি কাইসেদো, অ্যান্থনি ভালেন্সিয়া, জেরেমি আরেভালো
এফএইচএম

