World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

কাতারের অভিজ্ঞতায় আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী জাপান

কাতারের অভিজ্ঞতায় আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী জাপান

তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র বাদে জাপানই সবার আগে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। এশিয়ান বাছাইপর্বের গ্রুপে তারা দাপট দেখিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়।

টানা অষ্টমবার জাপান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অভিষেকের পর থেকে। কাতারে তারা গ্রুপ পর্বে স্পেন ও জার্মানি উভয়কেই হারিয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছিল। উত্তর আমেরিকাতেও তারা একই ধরনের পারফরম্যান্স দেখাতে মুখিয়ে থাকবে।

জাপান প্রধান কোচ: হাজিমে মোরিয়াসু

২০১৮ সালের জুলাই মাসে হাজিমে মোরিয়াসু জাপানের প্রধান কোচ হন। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জাতীয় দলের পাশাপাশি সানফ্রেস হিরোশিমার মিডফিল্ডার ছিলেন। পরে ওই দলের কোচ হিসেবে তিনি তিনটি জে-ওয়ান লিগ শিরোপাও জেতেন। তাকেশি ওকাদা ও আকিরা নিশিনোর পর তৃতীয় জাপানি কোচ হিসেবে ২০২২-এ জাপানকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যান। মোরিয়াসু তার দক্ষ খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা ও তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার মাধ্যমে দলের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ধরে রাখার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।

জাপানের ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি

১৪ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান – ডালাস স্টেডিয়াম

২০ জুন: তিউনিসিয়া বনাম জাপান – এস্তাদিও মন্টেরি

২৫ জুন: জাপান বনাম সুইডেন – ডালাস স্টেডিয়াম

জাপানের বিশ্বকাপ ইতিহাস

কনফেডারেশন: এএফসি

সেরা বিশ্বকাপ: রাউন্ড অফ ১৬ (২০০২, ২০১০, ২০১৮, ২০২২)

সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (শেষ ষোলো)

প্রথম বিশ্বকাপ: ফ্রান্স ১৯৯৮

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: আটবার (১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)

টানা যোগ্যতা অর্জন: ৮ বার

বিশ্বকাপ আয়োজক: ২০০২

সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ-২৫, জয়-৭, ড্র-৬, হার-১২, গোল দিয়েছে-২৫, গোল খেয়েছে-৩৩।

ফিফা র‌্যাঙ্কিং- ১৮তম।

জাপানের শেষ বিশ্বকাপ

২০২২ সালে জাপান জার্মানি, স্পেন ও কোস্টারিকার সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানিকে এবং তৃতীয় ম্যাচে স্পেনকে পরাজিত করে তারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে পা রাখে। শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ২০১৮ সালের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে স্কোর ১-১ থাকায় ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে জাপানকে হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হয়।

জাপানের প্রথম বিশ্বকাপ

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের টুর্নামেন্টটি ছিল জাপানের প্রথম বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বের ড্রতে তারা আর্জেন্টিনা, ক্রোয়েশিয়া ও জ্যামাইকার মুখোমুখি হয়। জ্যামাইকার বিপক্ষে ম্যাচে মাসাশি নাকায়ামা জাপানের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করলেও তারা তিনটি ম্যাচেই হেরে যায় এবং প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়।

জাপানের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা

জাপানি জার্সিতে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি কেইসুকে হোন্ডার দখলে। তার মোট গোলের সংখ্যা চারটি, যার মধ্যে টানা তিনটি বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০-এ তিনি ক্যামেরুনের বিপক্ষে গোল করে যাত্রা শুরু করেন এবং ডেনমার্কের বিপক্ষে একটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি দূরপাল্লার ফ্রি-কিক থেকে দারুণ একটি গোল করেন। চার বছর পর ব্রাজিলে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে এবং রাশিয়া ২০১৮-তে সেনেগালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল করে তিনি জাপানি সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।

জাপানের রেকর্ড বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়

এই রেকর্ডটি ইউতো নাগাতোমোর দখলে, যিনি ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১০ সালে তিনি জাপানের চারটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন এবং দলকে নকআউট পর্বে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও বাম প্রান্তে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে তিনি প্রতিটি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২২ সালে দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নাগাতোমো এখনও একজন সক্রিয় খেলোয়াড় এবং ২০২৬ সালে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

জাপানের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়

বিশ্বকাপে জাপানের খেলা ২৫টি ম্যাচের মধ্যে ৭টি জয় রয়েছে, যার ৫টিই এসেছে ১ গোলের ব্যবধানে। বাকি দুটি জয় ছিল ২ গোলের ব্যবধানে, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাদের সবচেয়ে বড় জয়। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার জন্য তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের অন্তত ড্র প্রয়োজন ছিল। সেই মিশনে হিরোয়াকি মরিশিমা ও হিদেতোশি নাকাতার গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় তারা। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০-এ ডেনমার্কের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে কেইসুকে হোন্ডা, ইয়াসুহিতো এন্দো এবং শিনজি ওকাজাকি গোল করে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন এবং জাপানকে নকআউট পর্বে নিয়ে যান।

জাপান বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক- তোমোকি হায়াকাওয়া, কেইসুকে ওসাকো, জায়ন সুজুকি

ডিফেন্ডার- কো ইটাকুরা, হিরোকি ইতো, ইউতো নাগাতোমো, আয়ুমু সেকো, ইউকিনারি সুগাওয়ারা, জুনোসুকে সুজুকি, শোগো তানিগুচি, টেকহিরো তমিয়াসু, তসুইয়োশি ওয়াতানাবে

মিডফিল্ডার- রিতসু দোয়ান, ওয়াতারু এন্ডো, জুনিয়া ইতো, দাইচি কামাদা, তাকেফুসা কুবো, কেইতো নাকামুরা, কাইশু সানো, আও তানাকা

ফরোয়ার্ড- কেইসুকে গোটো, দাইজেন মায়েদা, কোকি ওগাওয়া, কেন্তো শিওগাই, ইউইতো সুজুকি, আয়াসে উএদা

এফএইচএম