সম্প্রতি বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড প্রত্যাশার বোঝা কাঁধে নিয়ে নামছে। অন্যবারের মতো এবারের বিশ্বকাপেও তাদের দর্শক-সমর্থকরা ‘ইটস কামিং টু হোম’ স্লোগানে মুখরিত থাকবেন। ‘থ্রি লায়ন’রা তাদের ১৭তম এবং টানা অষ্টম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।
ইউরোপের এই শক্তিশালী দলটি দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাইবে। তারা শেষবার ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে ওয়েম্বলিতে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। এরপর তারা ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে দুবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে এবং পাঁচটি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। মহাদেশীয় মঞ্চে তারা গত দুটি উয়েফা ইউরোতে রানার্স-আপ হয়েছে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টিকে থাকবে তারা।

ইংল্যান্ড কোচ: টমাস টুখেল
গ্যারেথ সাউথগেট চলে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে টুখেল ইংল্যান্ডের নতুন বস হিসেবে নিশ্চিত হন। যদিও দায়িত্ব শুরু করেন পরের বছরের জানুয়ারিতে। এই জার্মান তৃতীয় বিদেশি কোচ হিসেবে থ্রি লায়নদের ডাগআউটে যোগ দিয়েছেন।
খেলোয়াড় হিসেবে সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার শেষে তিনি দ্রুত কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন। স্বদেশী ইয়ুর্গেন ক্লপের মতো টুখেলও মেইঞ্জের ডাগআউটে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে সাফল্য পান। ইংল্যান্ডের কোচের হটসিটে বসার আগে তিনি প্যারিস সেন্ট জার্মেই, চেলসি ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ট্রফি জিতেছেন।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের সূচি
১৭ জুন: ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া – ডালাস স্টেডিয়াম
২৩ জুন: ইংল্যান্ড বনাম ঘানা – বোস্টন স্টেডিয়াম
২৭ জুন: পানামা বনাম ইংল্যান্ড – নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: উয়েফা
সেরা বিশ্বকাপ: চ্যাম্পিয়ন (১৯৬৬)
গত বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (কোয়ার্টার ফাইনাল)
প্রথম বিশ্বকাপ: ব্রাজিল ১৯৫০
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১৭ বার
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ ৭৪, জয় ৩২, ড্র ২২, হার ২০, গোল করেছে ১০৪, গোল খেয়েছে ৬৮।
ফিফা র্যাঙ্কিং: ৪র্থ।
ইংল্যান্ডের শেষ বিশ্বকাপ
কাতারে তাদের হৃদয় ভেঙেছে ফ্রান্স। পরবর্তীতে চ্যাম্পিয় হওয়া দলের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেয় ইংলিশরা।
তবে শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ইরানকে ছয় গোল দিয়েছিল তারা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড্র ও ওয়েলসের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। তারপর সেনেগালের জালে তিনবার বল জড়িয়ে ২০০২ সালের পর নকআউটে সবচেয়ে বড় জয় পায় সাউথগেটের শিষ্যরা।
শেষ আটের খেলায় ফ্রান্সের অরেলিয়েন শুয়োমেনি প্রথমার্ধে লিড এনে দেন। হ্যারি কেন বিরতির পর পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান। খেলা শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগে অলিভার জিরুদের গোলে ফ্রান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। কেন সাত মিনিট বাকি থাকতে স্পট কিক থেকে আরেকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রসবারের ওপর দিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বল মেরে দলকে দুঃখে ভাসান।
ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ
১৯৪৬ সালে পুনরায় ফিফায় যোগ দেওয়ার পর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে। চিলির বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে অভিষেক রাঙায় তারা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে ২ নম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থেকে বিদায় নেয়।

ইংল্যান্ডের রেকর্ড গোলদাতা
গ্যারি লিনেকার ১৯৮৬ সাল থেকে ১০টি গোল করে ইংল্যান্ডের রেকর্ড গোলদাতা হয়ে আছেন। হ্যারি কেন ৮টি গোল নিয়ে তার দুই গোল পেছনে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
পিটার শিলটন ইংল্যান্ডের হয়ে রেকর্ড ১২৫টি ক্যাপ অর্জন করেছেন এবং অন্য যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি (১৭টি) বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে পানামার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৬-১ গোলের জয়টি বিশ্বমঞ্চে তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে টিকে আছে। সেই ম্যাচে জন স্টোনসের জোড়া হেডার, হ্যারি কেনের পেনাল্টি ও জেসি লিনগার্ডের একটি দুর্দান্ত গোল ছিল উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ড বিরতির আগেই ৫-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল, যা ১৯৭৪ সালে হাইতির বিপক্ষে পোল্যান্ডের পর প্রথম কোনো দলের গ্রুপ-পর্বে বিরতির আগে ৫ গোল দেওয়ার রেকর্ড।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক- ডিন হেন্ডারসন, জর্ডান পিকফোর্ড, জেমস ট্র্যাফোর্ড
ডিফেন্ডার- ড্যান বার্ন, মার্ক গেহি, রিস জেমস, এজরি কনসা, টিনো লিভরামেন্টো, নিকো ও’রাইলি, জারেল কুয়ানসা, জেড স্পেন্স, জন স্টোনস
মিডফিল্ডার- এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহাম, এবেরেচি এজে, জর্ডান হেন্ডারসন, কোবি মাইনু, ডেক্লান রাইস, মরগান রজার্স
ফরোয়ার্ড- অ্যান্থনি গর্ডন, হ্যারি কেইন, ননি মাদুয়েকে, মার্কাস র্যাশফোর্ড, বুকায়ো সাকা, ইভান টনি, ওলি ওয়াটকিন্স
এফএইচএম

