কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে সগৌরবে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া। ফিফার এই টুর্নামেন্টে এর আগে সাতবার অংশ নিলেও তারা শেষবার বিশ্ব আসরে খেলেছিল ১৯৯৮ সালে।
১৯৫৪ সালের ব্রোঞ্জ পদকজয়ীরা গত বছর ১৮ নভেম্বর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের বাছাইপর্বের গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। দীর্ঘ ২৮ বছর ফিরে এখন তারা উত্তর আমেরিকায় নিজেদের সামর্থ্য জানান দিতে প্রস্তুত। দলের স্ট্রাইকার সাসা কালাইদজিচ বললেন, ‘আমরা কোনো প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে যেতে চাই না, বিশেষ করে এই দল নিয়ে। এই দলে দারুণ কিছু প্রতিভাবান আছে, কিন্তু আমাদের প্রধান শক্তি একতা ও দলীয় চেতনা।’
অস্ট্রিয়া কোচ: রাল্ফ রাংনিক
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করা রাংনিকের কোচ ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূলত নিজ দেশ জার্মানিতে স্টুটগার্ট, হ্যানোভার, হফেনহাইম ও শালকের মতো ক্লাবগুলোতে তিনি কাজ করেছেন। তবে তিনি বিশ্বজুড়ে বেশি পরিচিত ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আরবি লাইপজিগের হয়ে তার অবিশ্বাস্য কাজের জন্য, যেখানে তিনি ক্লাবটিকে আঞ্চলিক লিগ থেকে বুন্দেসলিগার শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলেন।
বিশ্ব ফুটবলে ‘প্রেসিং’ কৌশলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত রাংনিক অস্ট্রিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বে ছিলেন। অস্ট্রিয়া দলকে তিনি ইউরো ২০২৪-এ তুলে দেন এবং বায়ার্ন মিউনিখের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে জাতীয় দলেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার হাত ধরেই অস্ট্রিয়া দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পেল।

গ্রুপে আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় নেই তিনি, ‘আমরা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলছি এবং তারা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এর চেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ আর হয় না, এমনকি পট ১ থেকেও। তাই, অবশ্যই আমরা সবাই সেই ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, কিন্তু আমরা এটাও জানি যে জর্ডানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিই নির্ধারক হতে পারে। আমরা রাউন্ড অফ ৩২-এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ সূচি
১৬ জুন: অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান – সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম
২২ জুন: আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া – ডালাস স্টেডিয়াম
২৭ জুন: আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া – কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: উয়েফা
সেরা বিশ্বকাপ: ১৯৫৪ (তৃতীয় স্থান)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ফ্রান্স ১৯৯৮ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: ইতালি ১৯৩৪
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৮ বার (১৯৩৪, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৯০, ১৯৯৮, ২০২৬)
সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ-২৯, জয়-১২, ড্র-৪, হার-১৩, গোল দিয়েছে-৪৩, গোল খেয়েছে-৪৭।
ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৩তম
অস্ট্রিয়ার শেষ বিশ্বকাপ
অস্ট্রিয়া শেষবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নিয়েছিল ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে। হার্বার্ট প্রোহাস্কার অধীনে অস্ট্রিয়া গ্রুপ বি-তে ইতালি, ক্যামেরুন এবং চিলির বিপক্ষে লড়াই করে। সেই টুর্নামেন্টটি অস্ট্রিয়ার জন্য ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরপুর; আশ্চর্যজনকভাবে তারা তাদের তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতেই দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে গোল করেছিল। শেষ ম্যাচে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরে তারা ২ পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নেয়, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিলির চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট কম ছিল।

অস্ট্রিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ
উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও, চার বছর পর ইতালি ১৯৩৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ছিল শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ১৯৩১ সাল থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ২৮ ম্যাচে মাত্র দুটি হারের রেকর্ডের কারণে তারা ‘ওয়ান্ডার টিম’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। সেবার তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ফ্রান্স ও হাঙ্গেরিকে হারিয়ে। তবে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইতালির কাছে ১-০ গোলে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয় এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়ে তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
বিশ্বকাপের আসরে অস্ট্রিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেছেন এরিখ প্রোবস্ট। এই সবকটি গোলই এসেছিল ১৯৫৪ বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ জয়ের ম্যাচে একমাত্র গোল দিয়ে শুরু করে তিনি চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৫-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এবং সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষেও তিনি গোল করেছিলেন।
অস্ট্রিয়ার রেকর্ড বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
অস্ট্রিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি চারজন খেলোয়াড় যৌথভাবে ভাগ করে নিয়েছেন: ফ্রিডরিখ কোনসিলিয়া, এরিখ ওবারমায়ার, ব্রুনো পেজি এবং হার্বার্ট প্রোহাস্কা। এই চারজনই ১৯৭৮ এবং ১৯৮২ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার প্রতিটি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১১টি করে ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন।
অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টি এসেছিল ১৯৫৪ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে, যেখানে তারা ৫-০ ব্যবধানে জয় পায়। প্রোবস্টের হ্যাটট্রিক ও স্তোয়াসপালের জোড়া গোলে সেই জয়টি নিশ্চিত হয়েছিল। সেই আসরেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে উরুগুয়েকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপে তাদের সেরা অর্জনটি (তৃতীয় স্থান) নিশ্চিত করেছিল।
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার- প্যাট্রিক পেনৎস, আলেকজান্ডার শ্লাগার, ফ্লোরিয়ান উইগেলে
ডিফেন্ডার- ডেভিড আফেনগ্রুবার, ডেভিড আলাবা, কেভিন ডানসো, মার্কো ফ্রিডল, ফিলিপ লিনহার্ট, ফিলিপ মভেনে, স্টেফান পসখ, আলেকজান্ডার প্রাস, মাইকেল সভোবোদা
মিডফিল্ডার- ক্রিস্টফ বাউমগার্টনার, কার্নি চুকুয়েমেকা, ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিৎসার, জাভের শ্লাগার, রোমানো শ্মিড, আলেসান্দ্রো শপফ, নিকোলাস সাইভাল্ড, পল ভানার, প্যাট্রিক ভিমার
ফরোয়ার্ড- মার্কো আরনাউটোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিচ, সাশা কালাইডজিচ।
এফএইচএম

