World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

জেদ নাকি আর্থিক সংকট, কেন সুযোগ পেয়েও বিশ্বকাপে খেলেনি ভারত?

জেদ নাকি আর্থিক সংকট, কেন সুযোগ পেয়েও বিশ্বকাপে খেলেনি ভারত?

আজকের দিনে ভারত ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে, এটি যেকোনো ফুটবল ভক্তের কাছে এক বড় স্বপ্ন। কিন্তু আজ থেকে ঠিক ৭৬ বছর আগে, ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্লু টাইগাররা। শুধু সুযোগই নয়, বাছাইপর্বের সমীকরণ মিলিয়ে এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বমঞ্চের টিকিট নিশ্চিত করেছিল তারা।

কিন্তু এক অদ্ভুত জেদ আর অভাবের অজুহাতে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। যা ফুটবল ইতিহাসে আজও এক বিরাট ট্র্যাজেডি।

১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে বুট না পরে, কেবল পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। অলিম্পিকের সেই খালি পায়ের ফুটবল প্রশংসিত হলেও ফিফা তাদের বৈশ্বিক মঞ্চে এমন ঝুঁকি নিতে রাজি ছিল না।

১৯৫০ বিশ্বকাপের আগে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে খেলতে হলে সমস্থ খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে বুট বা জুতো পরে মাঠে নামতে হবে। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলাররা জুতো পরে খেলতে অভ্যস্ত ছিলেন না এবং খালি পায়ে খেলার অদ্ভুদ জেদই তাদের বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় বলে অনেকে মনে করেন।

১৯৫০ সালের ভারত ফুটবল দল।

 

তবে কেবল বুটের কড়াকড়িই নয়, এর পেছনে ছিল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের দূরদর্শিতার অভাব ও আর্থিক সংকট। ১৯৫০ সালে ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকায় যাতায়াত ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ব্রাজিলে গিয়ে এক মাস ধরে বিশ্বকাপ খেলার মতো পর্যাপ্ত তহবিল বা স্পন্সর তখন ভারতের ছিল না।

এছাড়া তৎকালীন সময়ে অলিম্পিকের তুলনায় বিশ্বকাপকে ভারতীয় ফুটবল কর্তারা খুব একটা গুরুত্ব দেননি। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ক্লান্তি এবং যাতায়াত খরচের অজুহাত দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপে কেবল তিনটি দল (ইতালি, সুইডেন ও প্যারাগুয়ে) অংশ নিয়েছিল। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে একে বলা হয় সবচেয়ে বড় ‘মিসড অপরচুনিটি’ বা হাতছাড়া হওয়া সুযোগ। যদি সেদিন ভারত সেই টুর্নামেন্টে অংশ নিত, তবে হয়তো আজ উপমহাদেশের ফুটবলের মানচিত্রটাই অন্যরকম হতে পারত।

১৯৫০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।

 

১৯৫০ সালের সেই বিশ্বকাপের আলাদা এক কারণে স্মরণীয় হয়ে যাবে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেবার প্রথম এবং শেষবার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। গ্রুপপর্বের সেরা চার দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফাইনাল রাউন্ড। শর্ত ছিল, এই রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দলই হবে চ্যাম্পিয়ন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ব্রাজিল-উরুগুয়ে মধ্যকার শেষ ম্যাচটিই ছিল শিরোপা নির্ধারণী। ড্র-ই করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো স্বাগতিক ব্রাজিল। আর জয়ের দরকার ছিল উরুগুয়ের। প্রথমে গোল দিয়ে ফেলেছিল সেলেসাওরা। কিন্তু মারাকানা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়েই নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করেছিল উরুগুইয়ানরা।

এমএমএম/