World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

হালান্ডের গোলক্ষুধায় ভর করে দাপট দেখাতে চায় নরওয়ে

হালান্ডের গোলক্ষুধায় ভর করে দাপট দেখাতে চায় নরওয়ে

টানা ২৮ বছর অপেক্ষার পর নরওয়ে তাদের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বা সোনালি প্রজন্মের ওপর ভর করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দাপটের সাথে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নরওয়ে আট ম্যাচের সবগুলো জিতেছে ৩৭ গোল করে। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড।

কোচ স্টেল সোলবাকেন এবং মাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা ও হালান্ডের গোলক্ষুধার ওপর ভিত্তি করে অনেক সমর্থকই বিশ্বাস করেন যে, উত্তর আমেরিকার এই আসরটি হবে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সেরা টুর্নামেন্ট।

সোলবাকেন বলেছেন, ‘অনেক বছর পর প্রথমবার বিশ্বকাপে যখন খেলার সুযোগ পাবেন, তখন অতিরিক্ত প্রত্যাশা থাকার কথা নয়। আশা করি আমরা বাছাইপর্বে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলব।’

নরওয়ে কোচ: স্টেল সোলবাকেন

বিশ্বকাপ সম্পর্কে ভালো জানাশোনা, এমন মানুষই নরওয়েকে মূল পর্বে ফিরিয়ে এনেছেন। সোলবাকেন জাতীয় দলের হয়ে ৬ বছরে ৫৮টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচসহ ২০০০ সালের ইউরোতেও অংশ নিয়েছিলেন।

খেলোয়াড়ি জীবনের মতো তার কোচিং ক্যারিয়ারও শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে হামারকামেরেটেনে। এরপর কোলন ও উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এফসি কোপেনহেগেনের হয়ে দুটি সফল মেয়াদ পার করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে লার্স লেগারব্যাকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি নরওয়ের কোচের দায়িত্ব নেন।

নরওয়ের বিশ্বকাপ সূচি

১৬ জুন: ইরাক বনাম নরওয়ে – বোস্টন স্টেডিয়াম

২২ জুন: নরওয়ে বনাম সেনেগাল – নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম

২৬ জুন: নরওয়ে বনাম ফ্রান্স – বোস্টন স্টেডিয়াম

নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাস

কনফেডারেশন: উয়েফা

সেরা বিশ্বকাপ: শেষ ১৬ (১৯৩৮*, ১৯৯৮), ১৯৩৮ সালে সবগুলো দল শেষ ষোলো থেকে খেলা শুরু করেছিল।

সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ফ্রান্স ১৯৯৮ (শেষ ষোলো)

প্রথম বিশ্বকাপ: ফ্রান্স ১৯৩৮

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৪ বার (১৯৩৮, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০২৬)

সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ-৮, জয়-২, ড্র-৩, হার-৩, গোল দিয়েছে-৭, গোল খেয়েছে-৮

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৩১তম।

নরওয়ের শেষ বিশ্বকাপ

নরওয়ের শেষ বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা ছিল ফ্রান্স ১৯৯৮-এ। এগিল ওলসেনের সেই দলে ছিলেন মূলত ইংল্যান্ডের লিগে খেলা একঝাঁক প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যাদের মধ্যে হেনিং বার্গ, স্টিগ ইনগে বিয়োর্নেবিয়ে, অধিনায়ক ফ্রোড গ্রোডাস ও ওলে গানার সলশেয়ার ছিলেন। স্টেল সোলবাকেনও সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। কেতিল রেকডাল ৬৬টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে সেই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সদস্য ছিলেন।

নরওয়ের প্রথম বিশ্বকাপ

নরওয়ে ১৯৩৮ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় দুই বছর আগে বার্লিন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জয়ী দলের অধিকাংশকে নিয়ে। শেষ ষোলোতে ইতালির মুখোমুখি হয়ে নরওয়ে ১-১ গোলে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সিলভিও পিওলার গোলে শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায়।

নরওয়ের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা

নরওয়ের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে একাধিক গোল করেছেন কেতিল রেকডাল এবং একাধিক আসরে গোল করার রেকর্ডও তার, প্রথম গোলটি ছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে। চার বছর পর ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক পেনাল্টি গোলটিও তার পা থেকেই এসেছিল। ওই গোলই নরওয়েকে নকআউট পর্বে পৌঁছে দেয়। বর্তমান সময়ের আর্লিং হালান্ড নিশ্চয়ই উত্তর আমেরিকায় রেকডালের এই দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি নিজের করে নিতে চাইবেন।

নরওয়ের রেকর্ড বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়

তিনজন খেলোয়াড় নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপের ৭টি ম্যাচেই অংশ নিয়েছেন। হেনিং বার্গ, স্টিগ ইনগে বিয়োর্নেবিয়ে ও কেতিল রেকডাল ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ উভয় আসরেই প্রতিটি ম্যাচে মাঠে ছিলেন।

নরওয়ের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়

নরওয়ের দুটি বিশ্বকাপ জয়ের ব্যবধানই ছিল ১ গোলের এবং দুটি জয়ের গোলই করেছিলেন রেকডাল। ১৯৯৪ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে ১-০ এবং ১৯৯৮ সালে মার্সেইতে ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ২-১ গোলের জয়। রেকডালের সেই পেনাল্টি গোলটি আজও নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হয়ে আছে।

নরওয়ের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার- অরিয়ান হাস্কিয়োল্ড নাইল্যান্ড, এগিল সেলভিক, সান্ডার ট্যাংভিক

ডিফেন্ডার- ক্রিস্টোফার ভাসবাক আয়ের, ফ্রেডরিক বিয়র্কান, হেনরিক ফালকেনার, সন্ড্রে ল্যাংগাস, তোরবিয়র্ন হেগগেম, মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেন, জুলিয়ান রাইয়েরসন, ডেভিড মোলার উলফ, লেও অস্টিগার্ড

মিডফিল্ডার- থেলোনিয়াস আসগার্ড, ফ্রেডরিক অউরেস্নেস, প্যাট্রিক বার্গ, সান্ডার বার্গে, অস্কার বব, জেন্স পেটার হাউগে, আন্তোনিও নুসা, আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ, মর্টেন থর্সবাই, ক্রিস্টিয়ান থর্স্টভেড্ট, মার্টিন ওডেগার্ড

ফরোয়ার্ড- আর্লিং হালান্ড, জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন, আলেকসান্ডার সোরলোথ।

এফএইচএম