গত আসরে অংশ নিতে পারেনি মিসর। দাপটের সাথে ফিরে এসেছে তারা। বিশ্বকাপে খেলবে চতু্র্থবারের মতো। বাছাইপর্বে দারুণ অভিযানের পর ‘ফারাও’রা অপরাজিত থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। জমাট রক্ষণ আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে তারা কঠিন প্রতিপক্ষদের হারিয়ে এই টিকিট নিশ্চিত করেছে।
এই টুর্নামেন্টটি মিসরের জন্য আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের সুবর্ণ সুযোগ। বৈশ্বিক সুপারস্টার মোহামেদ সালাহর নেতৃত্বে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দলে রয়েছেন ওমর মারমুশ, ত্রেজেগে ও মোস্তফা মোহামেদের মতো তারকারা, যারা কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্ন পূরণে মুখিয়ে আছেন।
মিসর কোচ: হোসাম হাসান
খেলোয়াড়ি জীবনে মিসরের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা হোসাম হাসান এখন একজন সফল স্বদেশী কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০৮ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি আল মাসরি, জামালেক ও ইসমাইলির মতো বড় ক্লাবগুলো পরিচালনা করেছেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্তুগিজ কোচ রুই ভিটোরিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তার অধীনে মিসর ৯১ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে যাওয়ার ইতিহাস গড়েছে। আর আফকনে তার দল সেমিফাইনালেও খেলেছে। এখন তিনি বিশ্বমঞ্চে আরও বড় কোনো অর্জনের দিকে চোখ রাখছেন।
মিশরের বিশ্বকাপ সূচি
১৫ জুন: বেলজিয়াম বনাম মিসর – সিয়াটল স্টেডিয়াম
২১ জুন: নিউজিল্যান্ড বনাম মিসর – বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার
২৬ জুন: মিসর বনাম ইরান – সিয়াটল স্টেডিয়াম
মিসরের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
সেরা বিশ্বকাপ: গ্রুপ পর্ব (১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: রাশিয়া ২০১৮ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: ইতালি ১৯৩৪
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৪ বার (১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮, ২০২৬)
সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ-৭, জয়-০, ড্র-২, হার-৫, গোল দিয়েছে-৫, গোল খেয়েছে-১২।
ফিফা র্যাঙ্কিং: ২৯তম

মিসরের প্রথম বিশ্বকাপ
আবহাওয়ার বিড়ম্বনা না থাকলে ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপেই মিসর অংশ নিতে পারত। ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে মিসরকে আমন্ত্রণ জানালেও সমুদ্রের ঝড়ের কারণে জাহাজ মিস করায় তারা আটলান্টিক পাড়ি দিতে পারেনি। তবে চার বছর পর ইতালি ১৯৩৪ বিশ্বকাপে তারা প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ে অংশ নেয়। নকআউট ফরম্যাটের সেই আসরে হাঙ্গেরির কাছে ৪-২ গোলে হেরে তারা বিদায় নেয়, যেখানে দলের দুটি গোলই করেছিলেন আবদুর রহমান ফাউজি।
মিসরের শেষ বিশ্বকাপ
আর্জেন্টাইন কোচ হেক্টর কুপারের অধীনে ২৮ বছর পর রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিল মিসর। লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে সালাহ খেলতে না পারায় মিসর ১-০ গোলে হেরে যায়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরে সালাহ গোল করলেও আয়োজক রাশিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারে তারা। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারলেও সালাহর একটি দর্শনীয় গোল মিসরীয়দের মনে আনন্দ দিয়েছিল। ফলাফল আশানুরূপ না হলেও বিশ্বমঞ্চে ফেরার বিষয়টি ছিল তাদের ফুটবলের জন্য বড় এক মাইলফলক।
মিসরের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
মিসরের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মানটি যৌথভাবে দুজন খেলোয়াড়ের দখলে। দুটি করে গোল আবদুর রহমান ফাউজি ও মোহামেদ সালাহর। ফাউজি তার গোল দুটি করেছিলেন ১৯৩৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে। অন্যদিকে সালাহ ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়া ও সৌদি আরবের বিপক্ষে ১টি করে গোল করে ফাউজির পাশে নাম লেখান। ২০২৬ বিশ্বকাপে সালাহর সামনে সুযোগ থাকছে এই রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেওয়ার।

মিসরের রেকর্ড বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
মিসরের হয়ে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি দুই প্রজন্মের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে, যারা প্রত্যেকে ৩টি করে ম্যাচ খেলেছেন। এর প্রধান কারণ হলো মিসর এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপে ৩টির বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। ১৯৩৪-এ নকআউট ফরম্যাটের কারণে খেলেছিল মাত্র ১টি। এই তালিকায় ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ তারকারা রয়েছেন, যাদের মধ্যে মোহামেদ সালাহসহ বেশ কয়েকজন আগামী বছরের আসরেও অংশ নিতে পারেন।
মিসরের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার- মোহামেদ আলা, মোহামেদ এল শেনাওয়ি, মোস্তফা শোবেয়র, এল মাহদি সোলিমান
ডিফেন্ডার- হোসাম আবদেলমাগিদ, মোহামেদ আবদেলমোনেম, তারেক আলা, আহমেদ ফাতহি, কারিম হাফেজ, মোহামেদ হানি, ইয়াসের ইব্রাহিম, রামি রাবিয়া
মিডফিল্ডার- ইমাম আশুর, মারওয়ান আত্তিয়া, নাবিল এমাদ, হামদি ফাথি, হাইথাম হাসান, মোহান্নাদ লাশিন, মাহমুদ সাবের, মাহমুদ হাসান ট্রেজেগুয়েত, মোস্তফা জিকো, আহমেদ সাঈদ জিজো
ফরোয়ার্ড- হামজা আবদুলকরিম, ইব্রাহিম আদেল, ওমর মারমুশ, মোহামেদ সালাহ।
এফএইচএম

