ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ আসর বসেছিল ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের সেবারের আসরটি কেবল ফুটবলের শৈল্পিকতার জন্যই নয়, বরং এক নতুন বিশ্বশক্তির উত্থান এবং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। প্রথমবারের মতো ৩২টি দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়ে প্রথম শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠে স্বাগতিক ফ্রান্স।
সেবারের বিশ্বকাপে ফেবারিট তকমা নিয়ে অংশ নেয় ব্রাজিল। পুরো টুর্নামেন্টেও দারুণ পারফরম্যান্স ছিল লাতিন আমেরিকার দেশটির ফুটবলারদের। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। কেননা শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচটি ছিল শুধুই জিনেদিন জিদানের।
প্যারিসের ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে ফাইনালে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেন জিদান। প্রথমার্ধেই তার করা দুটি চমৎকার হেডারের গোল ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধুলিসাৎ করে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে ফরাসিরা। আর এই ফাইনালের মধ্য দিয়েই ফুটবল বিশ্ব পেয়ে যায় জিনেদিন জিদান নামের এক নতুন রাজপুত্রকে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ব্রাজিলের ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিওর সেই শরীর শিউরে ওঠা রহস্যময় ঘটনা। টুর্নামেন্ট জুড়ে ৪ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিলকে একাই ফাইনালে তুলেছিলেন ২১ বছর বয়সী এই সুপারস্টার। কিন্তু ফাইনালের দিন দুপুরে প্যারিসের হোটেল রুমে যা ঘটেছিল, তা আজও ক্রীড়াবিশ্বের সবচেয়ে বড় কালো অধ্যায়।
দুপুরের খাবারের পর নিজের রুমে বিশ্রাম নেওয়ার সময় আচমকা খিঁচুনি শুরু হয় রোনালদোর, একপর্যায়ে তিনি মুখ দিয়ে ফেনা তুলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার রুমমেট রবার্তো কার্লোস দ্রুতই ডাক্তার ডাকেন।
এই ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো ব্রাজিল দল এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল যে, ম্যাচের অফিসিয়াল টিম শিটে প্রথমে রোনালদোর নামই রাখা হয়নি। কিন্তু ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪৫ মিনিট আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে স্টেডিয়ামে ছোটেন রোনালদো। কোচ মারিও জাগালোর কাছে নিজে খেলার আকুতি জানান। শেষ মুহূর্তে তাকে একাদশে রাখা হলেও মাঠে নামা রোনালদো ছিলেন তার ছায়া মাত্র। বিষণ্ণ, ম্লান ও পুরোপুরি অফ-ফর্মে থাকা

সেবারই প্রথম বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রথমবার খেলার সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। আর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার চমক দেখায় তারা। ক্রোয়েট স্ট্রাইকার ডেভোর সুকার ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতে নিয়েছিলেন।
এদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড পেয়ে পুরো ইংল্যান্ডের খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন তরুণ বেকহ্যাম। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল্ডেন গোল দেখা যায় এই আসরে। ফ্রান্সের লরেন্ট ব্লাঙ্ক প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল করে গড়েছিলেন ইতিহাস।
এই আসরেই মাইকেল ওয়েন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য সোলো গোল করে বিশ্ববাসীকে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ডেনিস বার্গক্যাম্পের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে করা সেই শেষ মুহূর্তের গোলটি আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।
এমএমএম/

