আধুনিক ফুটবল বিশ্বকাপে কোনো স্ট্রাইকার যদি পুরো আসর মিলিয়ে ৫ বার ৬টি গোল করতে পারেন, তবেই তার হাতে উঠে যায় বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট। কিন্তু ফুটবল ইতিহাস এমন এক জাদুকরের সাক্ষী হয়েছিল, যিনি মাত্র একটি বিশ্বকাপ আসরে মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলে একাই করেছিলেন ১৩টি গোল। তিনি ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন।
১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে তার গড়া এই মহাকাব্যিক রেকর্ড আজ ৬৮ বছর পরও অক্ষত এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে- এই রেকর্ড ভাঙা চিরকাল অসম্ভবই রয়ে যাবে।
১৯৫৮ বিশ্বকাপের এই অবিশ্বাস্য গল্পের আড়ালে রয়েছে এক মজার ট্র্যাজেডি। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে অনুশীলনে ফন্টেইনের নিজের বুটজোড়া ছিঁড়ে যায়। সেই যুগে স্পন্সরদের এমন ছড়াছড়ি ছিল না। ফলে দলের অতিরিক্ত খেলোয়াড় স্টেফান ব্রুইয়ের কাছ থেকে একজোড়া বুট ধার করেন ফন্টেইন। সেই বুটজোড়া নিয়েই ইতিহাস গড়েন তিনি।

ফন্টেইনের গোল করার ক্ষুধা কেমন ছিল, তা তার ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই করেন হ্যাটট্রিক। এরপর যুগোশ্লাভিয়ার বিপক্ষে ২ গোল এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ১ গোল। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ২ গোল। আর পেলের ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্স ৫-২ ব্যবধানে হারলেও ফ্রান্সের হয়ে ১টি গোল ঠিকই করেছিলেন ফন্টেইন।
এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোলে বিধ্বস্ত করার দিনে একাই ৪ গোল করেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

এক আসরে ১৩ গোল করাটা অলৌকিকই বটে। কেন অলৌকিক তা বুঝতে একটু তুলনা করা যাক। আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারে ৫টি করে বিশ্বকাপ খেলেছেন। মেসি ৫ বিশ্বকাপে করেছেন মোট ১৩ গোল, আর রোনালদো করেছেন ৮ গোল।
অর্থাৎ মেসি তার পুরো ক্যারিয়ারে ৫টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে যে কটি গোল করেছেন, জাস্ট ফন্টেইন মাত্র একটি বিশ্বকাপে এককভাবে সেই পরিমাণ গোল করে দেখিয়েছেন।
আজকের দিনে ফুটবল অনেক বেশি ডিফেন্সিভ এবং ট্যাকটিক্যাল। দলগুলো রক্ষণভাগ নিরেট রাখতে পছন্দ করে। এমন আঁটসাঁট ফুটবলের যুগে কোনো একজন স্ট্রাইকারের পক্ষে এক আসরে ১৩ গোল করা তো দূরের কথা, দুই অঙ্কের ঘর (১০ গোল) ছোঁয়াও অবাস্তব কল্পনা।
এমএমএম/

