World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

২০০৬: ইতালির চতুর্থ শিরোপা ও জিদানের ট্র্যাজিক বিদায়

২০০৬: ইতালির চতুর্থ শিরোপা ও জিদানের ট্র্যাজিক বিদায়

২০০৬ সালে জার্মানিতে আয়োজিত বিশ্বকাপটি ছিল আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা আসর। এই বিশ্বকাপ যেমন ইতালিকে চতুর্থবারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিয়েছিল, তেমনি এক মহানায়ক জিনেদিন জিদানের বিদায় করে তুলেছিল চিরস্মরণীয় ও বিতর্কিত।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয় আলোচিত ফাইনালগুলোর একটি হলো ২০০৬ সালের ইতালি এবং ফ্রান্সের লড়াই। ম্যাচের শুরুতেই জিদানের পেনাল্টিতে ফ্রান্স এগিয়ে গেলেও দ্রুতই মাতেরাজ্জির হেডে সমতায় ফেরে ইতালি। তবে ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় অতিরিক্ত সময়ে। ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির এক মন্তব্যে মেজাজ হারিয়ে তাকে সজোরে ঢুস মেরে বসেন জিদান।

বিশ্বকাপের ট্রফিকে পাশ কাটিয়ে মাথা নিচু করে জিনেদিন জিদানের সেই মাঠ ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি আজও ফুটবলের সবচেয়ে করুণ দৃশ্য হিসেবে বিবেচিত। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল ট্রাইবেকারে। সেখানে ফ্রান্সকে ৫-৩ গোল ব্যবধানে হারিয়ে চতুর্থ শিরোপা নিশ্চিত করে ইতালি।

মার্সেলো লিপ্পির অধীনে ইতালি এই টুর্নামেন্টে জিতেছিল তাদের অজেয় রক্ষণভাগের কারণে। পুরো আসরে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় ইতালির জালে বল পাঠাতে পারেনি (একমাত্র গোলটি ছিল আত্মঘাতী এবং ফাইনালে গোল হয়েছে পেনাল্টিতে)।

গোলরক্ষক জানলুইজি বুফন এবং অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারোর অপ্রতিরোধ্য জুটি ইতালিকে এনে দিয়েছিল দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বসেরার স্বাদ। ক্যানাভারো তো তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে সেই বছর ব্যালন ডিঅর পর্যন্ত জিতেছিলেন।

এদিকে ঘানার বিপক্ষে গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ১৫তম গোল পূর্ণ করেছিলেন এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছিলেন। আর পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটি ‘ব্যাটল অফ নুরেমবার্গ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই ম্যাচে রেফারি ভ্যালেন্টিন ইভানোভ রেকর্ড ১৬টি হলুদ কার্ড এবং ৪টি লাল কার্ড দেখান।

এই বিশ্বকাপেই বিশ্বমঞ্চে প্রথম পা রাখেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে গোল করে মেসি কনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন। সেবারের বিশ্বকাপে লুকাস পোডলস্কি টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এবং মিরোস্লাভ ক্লোসা ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন।

এমএমএম/