২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ফুটবলর মহাযজ্ঞ বসেছিল আফ্রিকা মহাদেশে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই আসরটি ফুটবলবিশ্ব মনে রাখবে ভুভুজেলার কান ফাটানো শব্দ, জাবুলানি বলের রহস্য আর স্পেনের নান্দনিক ফুটবলের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য।
২০১০ সালের ১১ জুলাই জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। পুরো ম্যাচ জুড়ে ডাচদের শারীরিক ফুটবল আর স্পেনের টিকিটাকার লড়াই চলে।
নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় সেস ফ্যাব্রিগাসের পাস থেকে আদ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোল স্পেনকে এনে দিয়েছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের মাত্র অষ্টম দল হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্প্যানিশরা।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ইতালি ও ফ্রান্সের জন্য এই আসর ছিল চরম লজ্জার। দুই দলই তাদের গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে ব্যর্থ হয়ে বিদায় নেয় আগে-ভাগেই। অন্যদিকে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টে থেকে ছিটকে যায়।
এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল একটি অক্টোপাস। জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামে থাকা এই পল স্পেনের ফাইনাল জয়সহ বেশ কিছু ম্যাচের সঠিক ভবিষ্যৎবাণী করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল।
সেবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল জাবুলানি নিয়ে তো ফুটবলারদের অভিযোগের শেষ ছিল না। বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার কারণে গোলরক্ষকদের জন্য এই বিশ্বকাপ ছিল এক দুঃস্বপ্ন।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের ম্যাচের উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ঘানা। সেই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত গোল হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছিলন উরুগুইয়ান তারকা ফুটবলার লুইস সুয়ারেজ। অবশ্য এমন কাণ্ডের জন্য লাল কার্ড দেখিছিলেন তিনি। তবে ঘানা সেই পেনাল্টি মিস করলে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে উঠে যায় উরুগুয়ে। এটি ছিল কোনো আফ্রিকান দলের জন্য সেমিফাইনালে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
২০১০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পাঁচটি গোল করেছিলেন জার্মান তারকা থমাস মুলার। সেই সঙ্গে কয়েকটি অ্যাসিস্ট ছিল তার। ফলে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, উরুগুয়ের দিয়েগো ফোরলান তার অসামান্য নৈপুণ্যের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন।
এমএমএম/

