World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

২০১৪: মারাকানায় আর্জেন্টিনার কান্না এবং ব্রাজিলের লজ্জা

২০১৪: মারাকানায় আর্জেন্টিনার কান্না এবং ব্রাজিলের লজ্জা

ব্রাজিলের সাম্বা ছন্দে যখন বিশ্ব ফুটবলের মিলনমেলা বসেছিল, তখন হয়তো কেউ ভাবেনি সেই আসরটি লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির জন্য এতটা বিষাদময় হয়ে উঠবে। ২০১৪ সালের সেই বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে জার্মানির আধিপত্যের চেয়েও মারাকানার সবুজ ঘাসে লিওনেল মেসির বিষণ্ন চাহনি আর বেলে হরিজন্তের গ্যালারিতে কোটি ব্রাজিলিয়ানের অশ্রুভেজা গাল বেয়ে ঝরা কান্নার জন্য।

২০১৪ সালের ১৩ জুলাই ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হয় জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা বেশ কিছু সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১১৩তম মিনিটে মারিও গোটজে বদলি হিসেবে নেমে এক দুর্দান্ত ভলিতে জার্মানিতে এগিয়ে নেন।

এই এক গোলেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন ধূলিস্বাৎ হয়ে যায় এবং জার্মানি তাদের চতুর্থ শিরোপা উঁচিয়ে ধরে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেও শিরোপা ছুঁতে না পারার বিষাদ ফুটে উঠেছিল মেসির চোখেমুখে।

এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের ভরাডুবি। বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নেইমারের ইনজিুরি আর অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

প্রথমার্ধেই ৫ গোল হজম করা ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়। ফুটবল ইতিহাসে এটি মিনেইরাজো বা ব্রাজিলের চিরস্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে।

ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্ব এক নতুন তারকার দেখা পায়- কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ। টুর্নামেন্টে ৬টি গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট জয় করেন। বিশেষ করে উরুগুয়ের বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বুক দিয়ে বল নামানো ভলিটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত।

এদিকে ব্রাজিলের বিপক্ষেই গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মালিক বনে যান জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এই আসরেই প্রথমবার রেফারির হাতে ফ্রি-কিকের দূরত্ব ঠিক করার জন্য সাদা স্প্রে দেখা যায়।

এমএমএম/