গতকাল দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠেছে। বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশগ্রহণ না করলেও বাংলাদেশে উন্মাদনার কমতি নেই। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুই ভাগে বিভক্ত বাংলাদেশের অন্তঃপ্রাণ সমর্থকরা। বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা একেবারে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের চাওয়া ফাইনালে মুখোমুখি হোক ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা।
কক্সবাজারে আজ বিচ ফুটবলের সমাপনী অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তখন তিনি ব্রাজিলের হলুদ হোম জার্সি পরে ছিলেন। এতে যারা আর্জেন্টিনার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন তাদের মাঝে খানিকটা হতাশা দেখা যায়।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আমি চাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যারা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক রয়েছে আমরা সবাই চাই যেন ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলে। তাহলে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে আমাদের যে আমেজ ও উৎসাহ রয়েছে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারব।’
১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর চলছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিল পাঁচ ও আর্জেন্টিনা তিন বার চ্যাম্পিয়ন হলেও কখনো দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইও তিন যুগ আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুই দলের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ছিল। আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক ব্রাজিল ১-৭ গোলে জার্মানির বিপক্ষে হেরে যায়।
বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল এবং ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে কি না এ নিয়ে চলছে নানা রকম হিসাব-নিকাশ। সাধারণ এক হিসাবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উভয়কে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে এবং রাউন্ড অফ ৩২, প্রি-কোয়ার্টার ও কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে হবে। ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার মধ্যে এক দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আরেক দল রানার্স-আপ হলে আবার ভিন্ন সমীকরণ। আবার কেউ যদি গ্রুপে তৃতীয় হয়ে নক আউট পর্বে উঠে তাহলে আবার ভিন্ন সমীকরণ।
ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে থাকায় বাংলাদেশ সময় আগামীকালই বিশ্বকাপ অভিযানে মাঠে নামবে। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। আর আর্জেন্টিনা ‘জে’ গ্রুপে থাকায় তাদের প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে।
এজেড/এফআই

