World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

নকআউটে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বিশেষ কিছুর অপেক্ষায় নেদারল্যান্ডস

নকআউটে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে বিশেষ কিছুর অপেক্ষায় নেদারল্যান্ডস

বিশ্বকাপ মাঠে গড়িয়েছে ২২ বার, এর মধ্যে ১১ বার বাছাইপর্ব পেরিয়ে অংশ নিতে পেরেছে নেদারল্যান্ডস। ১৯৭৪ সাল থেকে যতবার বিশ্বমঞ্চে ছিল, প্রত্যেকবারই তারা নকআউটে খেলেছে। তিনবার খেলেছে ফাইনালে। 

এনিয়ে ১২তম বিশ্বকাপে অংশ নেবে নেদারল্যান্ডস। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই আসরেও তারা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আশাবাদী। একই সঙ্গে শিরোপার লক্ষ্য তো থাকছেই।

দলের তারকা ভার্জিল ফন ডাইক বলেছেন, এই নেদারল্যান্ডস এবার বিশেষ কিছু করে দেখাতে চায়। কোচ রোনাল্ড কোমান বলেছেন, এবার সবাইকে চমকে দেবে ডাচরা। যে কাউকে হারানোর মতো সামর্থ্য তাদের আছে।

নেদারল্যান্ডস কোচ: রোনাল্ড কোমান

কাতার বিশ্বকাপের পর লুইস ফন গাল অবসর নেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডসে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেন রোনাল্ড কোমান। বার্সেলোনা, পিএসভি, আয়াক্স, বেনফিকা ও এভারটনের মতো দলগুলোর ডাগআউটে কাটিয়ে দিয়েছেন ২৫ বছর। 

নেদারল্যান্ডসে প্রথমবার কোচ হয়ে চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে পারেননি কোমান। বার্সার ডাকে বিদায় নেন আগেভাগে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালের দুটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এবার বিশ্ব মঞ্চে নিজ দেশকে নেতৃত্ব দেবেন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে।

নেদার‌ল্যান্ডসের বিশ্বকাপ সূচি

১৪ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান- ডালাস স্টেডিয়াম

২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন- হাউস্টন স্টেডিয়াম

২৫ জুন: তিউনিসিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস- কানসাস সিটি স্টেডিয়াম।

নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ ইতিহাস

কনফেডারেশন: উয়েফা

বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: রানার্সআপ (১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০)

শেষ বিশ্বকাপ: ২০২২ কাতার (কোয়ার্টার ফাইনাল)

প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৩৪ ইতালি

বিশ্বকাপে অংশ: ১২ বার (১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬)

বিশ্বকাপ রেকর্ড: ৫৫ ম্যাচ, ৩০ জয়, ১৪ ড্র, ১১ হার, গোল করেছে ৯৬, গোল হজম ৫২ 

নেদারল্যান্ডসের প্রথম বিশ্বকাপ

ইতালিতে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় নেদারল্যান্ডসের। কিন্তু প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে পড়ে তারা। সুইজারল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে পরাজিত হয় ডাচরা। ১৬ দলের টুর্নামেন্টে সরাসরি নকআউটে খেলা হয়েছে, প্রথম রাউন্ডের জয়ীরা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

১৯৩৮ সালে পরের আসরেই অংশ নেয় নেদারল্যান্ডস। চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। পরের বিশ্বকাপে অংশ নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ বছর। ছয় টুর্নামেন্টে দর্শক হয়ে থাকার পর ১৯৭৪ সালে প্রত্যাবর্তনের আসরে ফাইনাল খেলেছিল নেদারল্যান্ডস।

নেদারল্যান্ডসের শেষ বিশ্বকাপ

সেনেগাল ও কাতারকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় নেদারল্যান্ডস। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। শেষ আটে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। ওয়েঘোর্ষ্ট ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। ইনজুরি টাইমের ১১তম মিনিটে নিজের জোড়া গোল করেন চমৎকার এক ফ্রি কিকে। এক্সট্রা টাইমেও স্কোর ছিল ২-২। পেনাল্টি শুটআউটে ওয়েঘোর্স্ট আবারো জাল কাঁপান। কিন্তু ভার্জিল ফন ডাইক ও স্টিভ বারঘুইসকে রুখে দেন এমি মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে তাদের বিদায় করে।  

বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ গোলদাতা

১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালে নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন জনি রেপ। পশ্চিম জার্মানিতে চার গোল করেন, আর্জেন্টিনায় আরও তিনটি। সাত গোল করে বিশ্বকাপে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা এই সাবেক অ্যাটাকার।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ডাচ খেলোয়াড়

আক্রমণভাগের দুই তারকা ওয়েসলি স্নেইডার ও রবিন ফন পার্সি বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তিনটি আসরে দুজনে সব মিলিয়ে ১৭ ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৬ সালে জার্মানিতে শেষ ষোলোতে ওঠার পথে চার ম্যাচের সবগুলো তারা খেলেছেন। চার বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় আরও সাত ম্যাচ খেলেন, যেবার ফাইনালে তারা স্পেনের কাছে হেরে যায়। ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস হয়েছিল তৃতীয়, ওইবার ছয় ম্যাচ খেলেন তারা।

বিশ্বকাপে নেদার‌ল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় জয়

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও মুগ্ধতা ছড়ায় নেদারল্যান্ডস। তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল, যেখানে হেরে যায় ব্রাজিলের কাছে। তারপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হার। ওই আসরেই অরেঞ্জরা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল। গ্রুপ পর্বে কোরিয়া রিপাবলিককে তারা হারায় ৫-০ গোলে। মার্সেইয়ের স্তাদে ভেলোদরোমেতে গোল করেন ফিলিপ কোকু, মার্ক ওভারমার্স, ডেনিস বার্গক্যাম্প, পিয়েরে ফন হুজডঙ্ক ও রোনাল্ড ডি বোয়ার।

নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার- মার্ক ফ্লেকেন, রবিন রোয়েফস, বার্থ ফারব্রুগেন

ডিফেন্ডার- নাথান আক, ডেনজেল ডামফ্রিস, জোরেল হাটো, লুটশারেল গেরট্রুইডা, ইয়ান পল ভ্যান হেক, ভার্জিল ফন ডাইক, মিকি ভ্যান ডে ভেন

মিডফিল্ডার- ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, মার্টেন ডে রুন, রায়ান গ্রাভেনবার্খ, টেইন কুপমেইনার্স, তিজানি রেইনডার্স, গুস টিল, কুইন্টেন টিম্বার, ম্যাটস উইফার

ফরোয়ার্ড- ব্রায়ান ব্রোবি, মেমফিস ডিপাই, কোডি গাকপো, জাস্টিন ক্লুইভার্ট, নোয়া ল্যাং, ডনিয়েল মালেন, ক্রেসেনসিও সামারভিল, ওউট ভেগহর্স্ট

এফএইচএম