টরন্টোতে হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতিতে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম হোম ওয়ার্ল্ড কাপ ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙাতে পারল না কানাডা। তবে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে তারা। জোভো লুকিচের গোলে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা লিড নিলেও শেষ মূহূর্তে কাইল লারিনের গোলে ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জেসি মার্শের দল।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ-বি এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল দুই দল।
মাঠের ফুটবলে আক্রমণ ও বল পজিশনে কানাডা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ট্যাকটিক্যাল কাউন্টার অ্যাটাকে স্বাগতিকদের রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচেই ব্যস্ত রেখেছিল বসনিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকে ঘরের মাঠের চেনা দর্শক আর কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে বসনিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে কানাডা। তবে ১৭তম মিনিটে জোনাথান ডেভিডের একটি সহজ সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয় তাদের তার ঠিক ৩ মিনিট পর।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার মিডফিল্ড থেকে ভেসে আসা নিচু ও নিখুঁত এক কর্নার কিক থেকে হেড ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় কানাডার ডিফেন্স। সেই সুযোগে ওত পেতে থাকা ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ হেড করে বল কানাডার জালে জড়িয়ে দেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই ছিল লুকিচের প্রথম গোল। এই এক গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় বসনিয়া।
এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে অল-আউট অ্যাটাকে যায় কানাডা। বিশেষ করে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে কোচ জেসি মার্শ আক্রমণভাগে একাধিক পরিবর্তন এনে দলের গতি বাড়িয়ে দেন।
অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ৭৭তম মিনিট। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক আক্রমণ থেকে বল পান বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। বসনিয়ার ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে নিখুঁত এক কোনাকুনি শটে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি তিনি। লারিনের এই গোলের সাথে সাথেই পুরো টরন্টো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে।
ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরার পর শেষদিকে জয়সূচক গোলের জন্য দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালায়। তবে বসনিয়ার রক্ষণভাগ এবং কানাডার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ গোলের ড্রয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় দুই দলের বিশ্বমঞ্চের প্রথম লড়াই।
এমএমএম/

