আনচেলত্তির আগমনে দলটির চারপাশে অপরাজিত থাকার যে আবহ তৈরি করার চেষ্টা করেছে, তা সত্ত্বেও ব্রাজিলের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে যা প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে পারে। সেগুলোই খুঁজে বের করেছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস।
ব্রাজিলের দুই প্রান্তের ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। তারা এখনও এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ফুল-ব্যাক জুটি তৈরি করতে পারেনি যারা আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক অবদান রাখতে পারে। যদিও তারা মাঝে মাঝে এদার মিলিতাওয়ের মতো সেন্টার-ব্যাকদের রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলিয়েছে, কিন্তু এর ফলে তাদের আক্রমণভাগের গভীরতা ও ওভারল্যাপিং করার ক্ষমতা কমে গেছে। অন্যদিকে, বাম প্রান্তে অ্যালেক্স সান্দ্রো, কাইও হেনরিকে ও ওয়েনডেলের মধ্যে ক্রমাগত পরিবর্তন করা হলেও, ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে উইঙ্গারদের রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা দূর হয়নি। কোনো প্রতিপক্ষ যদি উইং বা প্রান্তগুলোতে বারবার ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তবে তারা এর পুরো ফায়দা তুলতে পারবে।
রক্ষণভাগে লাফিয়ে বল ঠেকানোর দুর্বলতাও রয়েছে ব্রাজিলের। যথেষ্ট লম্বা ডিফেন্ডার থাকা সত্ত্বেও ক্রস থেকে আসা বলের ক্ষেত্রে ‘সেকেন্ড বল’ বা রিবাউন্ড বল নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মনোযোগের ঘাটতি দেখা গেছে। কর্নার ঠেকাতে তাদের ‘আমদানিকৃত’ মিশ্র মার্কিং ব্যবস্থা যেমন ছয় গজের বক্সে পাঁচজন খেলোয়াড় ও তিনজন ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং অনেক সময়ই পেনাল্টি বক্সে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেয়, যা পেছন থেকে ছুটে আসা প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা কাজে লাগাতে পারে। যেসব দলের উঁচুতে লাফিয়ে হেড করার ভালো দক্ষতা এবং নিখুঁত সেট-পিস নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তারা সরাসরি গোল করার পথ পেয়ে যেতে পারে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে যেভাবে খেলতে হবে
উইঙ্গারদের নিষ্ক্রিয় করা একটি কৌশল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনহাকে রুখতে অবশ্যই একটি ডুয়েল মার্কিং ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কোনো সময় বা ফাঁকা জায়গা দেওয়া যাবে না। একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডারকে ব্যবহার করতে হবে যিনি সার্বক্ষণিকভাবে নজর রাখবেন ও ফুল-ব্যাককে সাহায্য করবেন।
বাম প্রান্তে আক্রমণ চালিয়ে ব্রাজিলকে বশে রাখা যেতে পারে। ভিনিসিয়ুস যে নিচে নেমে রক্ষণভাগকে সাহায্য করেন না বা করলেও পজিশনিং ও টাইমিংয়ের দিক থেকে খুবই দুর্বল—এই সত্যটিকে কাজে লাগাতে হবে। ওই প্রান্তে আক্রমণ দ্বিগুণ করলে তা ব্রাজিলের একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারকে (সম্ভবত গিমায়ারেস) তার নিজের জোন ছেড়ে কভার দিতে আসতে বাধ্য করবে, যার ফলে ব্রাজিলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ড অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
বল পজিশন নিয়ন্ত্রণে রেখে সেলেসাওদের নিষ্ক্রিয় রাখার সুযোগ আছে। গতিময় এবং শেষ প্রান্ত থেকে শেষ প্রান্তের উন্মুক্ত খেলায় ব্রাজিল দারুণ বিপজ্জনক। তাই খেলার গতি কমিয়ে দিয়ে, দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের মধ্যে সমান্তরাল পাস খেলে বল দখলে রাখলে তাদের আগ্রাসন কমানো যাবে এবং তাদের নিচে নেমে রক্ষণাত্মক ব্লক তৈরি করতে বাধ্য করে বিভ্রান্ত করা যাবে।
সেট পিস মানে কর্নার ও ফ্রি-কিকের সময় তাদের মিশ্র মার্কিং ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে হবে। সেট-পিসের প্রথমভাগের পর দ্বিতীয় ধাপের মুভমেন্ট দিয়ে তাদের ডিফেন্ডারদের মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারলে হেড করার জন্য দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে ফাঁকায় বল জোগান দেওয়া সম্ভব।
এফএইচএম

