বিশ্বকাপের মঞ্চে আগেও তার জাদু দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। কাতার বিশ্বকাপে তার বা পায়ের জাদুতে শিরোপাখরা ঘুচেছে আর্জেন্টিনার। আরেকটা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী মাচে মাঠে নেমে যেন পুরোনো সেই ক্ষুধার্ত মেসিরই দেখা মিলল। আজ কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইন মহাতারকা নতুন ইতিহাস লিখলেন। অতিমানবীয় হ্যাটট্রিক করে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ফুটবলের এই জাদুকর।
অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ শেষে যেন অন্য এক মেসির দেখা মিলল। আলজেরিয়াকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু হলেও মেসি জানালেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিশ্বকাপের সব খবর পেতে ক্লিক করুন এখানে
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন থাকায় কঠিন ও জটিল দিন পার করেছি। পুরো দল, কোচিং স্টাফ আর সতীর্থদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। তাদের সমর্থনই আমাকে শক্তি জুগিয়েছে।’

তবে মাঠে তার খেলা দেখে কে বলবে, সময়টা এত কঠিন ছিল? তিন গোল করে দলের বড় জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে নিয়ে মেসি বলছিলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। আলজেরিয়া দলে দ্রুতগতির ও পরিশ্রমী কিছু খেলোয়াড় আছে। বল পেলে তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে আমরা শুরুতেই এগিয়ে যেতে পেরেছি, এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখি।’
বড় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলেও আগামীর পথ মোটেও সহজ ভাবছেন না ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে কোনো দলই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। মেসি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ থেকেই আমরা শিখেছি, এখানে কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। সব দলই শক্তিশালী, সংগঠিত এবং নিজেদের মতো করে প্রস্তুত। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’
বয়সটা ৩৯ ছুঁইছুঁই। এই বয়সে এসেও মাঠে নিজের সেরাটা দিয়ে যাওয়ার জন্য কী তাকে অনুপ্রাণিত করে, "আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটা আমার প্যাশন। যখন আমার মন ভালো থাকে, আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে দিই। আমরা এখন রাফায়েল নাদালের সিরিজ দেখছি এবং আমি তার সাথে অনেক মিল খুঁজে পাই; আমাদের মধ্যে অনেক মিল আছে, কারণ আমিও আমার সেরাটা দিতে চাই এবং ভালো অনুভব করতে চাই। আমি এভাবেই খেলাটা উপভোগ করি। যতদিন আমি পারব এবং খেলার জন্য ফিট থাকব, আমি এখানেই থাকব।"

ম্যাচে তিন গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে উঠেছেন মেসি। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে তার খুব বেশি আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, সেখানে থাকাটা সম্মানের, কারণ ক্লোসার পাশে থাকার একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে। রোনালদোও সেখানে আছেন, কিন্তু আমার মনে হয় না এর কোনো বিশেষ অর্থ আছে। এমবাপেও সেখানে আছেন, তিনি আজ দুটি গোল করেছেন। এটা একটা পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়। যদিও তাদের সবার সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারাটা সম্মানের, কিন্তু এটা আমার কাছে কোনো অর্থ বহন করে না।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোকে স্মরণ করে মেসি আরও বলেন, ‘তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। আমি ছোটবেলায় তার খেলা দেখে মুগ্ধ হতাম। তবু তিনি তালিকার এক নম্বরে নেই। এটা দেখলেই বোঝা যায় বিশ্বকাপের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ এবং এখানে কত বড় বড় খেলোয়াড় খেলেছেন। তার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা হওয়াটাও আমার জন্য বিশেষ কিছু।’
এফআই

