World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

৬২ শটেও গোল নেই, ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তুরস্কের ফুটবলার

৬২ শটেও গোল নেই, ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তুরস্কের ফুটবলার

৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে শত চেষ্টাতেও সেই গোলের দেখা মিলল না। মাঠে তাই ছিল হতাশার ছবি—চোখ ভেজা, বুকভরা কষ্ট নিয়ে বিদায় নিলেন আর্দা গিলের, হাকান চালহানোলুরা। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এসেও মাত্র দুই ম্যাচেই শেষ হয়ে গেল তুরস্কের অভিযান।

চোখভরা স্বপ্ন আর বড় প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে পা রেখেছিল তুরস্ক। অভিজ্ঞদের সঙ্গে ছিল একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পর প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও একই পরিণতি—হার আর হতাশা।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা ছিল আরও কঠিন। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই মাতিয়াস গালারসার গোলে পিছিয়ে পড়ে তুরস্ক। সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও একের পর এক সুযোগ নষ্টের মিছিলই হয়ে ওঠে তাদের বাস্তবতা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মিগেল আলমিরনের লাল কার্ডে ১০ জনে নেমে যায় প্যারাগুয়ে। একজন বেশি নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পেয়েও ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি তুরস্ক। ৩২টি শট নিয়েও তারা সেই শুরুর গোল শোধ করতে ব্যর্থ হয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হারার ম্যাচেও একই ছবি। সেদিন গোলের জন্য ৩০টি শট নিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল তুরস্ক। দুই ম্যাচ মিলিয়ে আক্রমণের চাপ থাকলেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে ছিল ভয়াবহ ব্যর্থতা। ১৯৬৬ সাল থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো দল দুই ম্যাচে ৬২টি শট নিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলো।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মের্ত মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে পোস্ট ঘেঁষে ফিরে আসে—যেটিই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে কাছাকাছি গোলের মুহূর্ত। এছাড়া বারিস ইলমাজ, চান উজুন ও মেরিহ দেমিরালের সুযোগ হাতছাড়া যেন পুরো ম্যাচের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

তুরস্কের নতুন প্রজন্মের মুখ আর্দা গিলের ম্যাচ শেষে জাতির কাছে ক্ষমা চান। কণ্ঠ ভারী করে তিনি বলেন, 'আমরা খুব চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। কিছু গোল আমাদের করা উচিত ছিল, ম্যাচগুলো জেতা উচিত ছিল… সবাই কষ্টে আছে, সবাই কাঁদছে।'

এইচজেএস