খেলা শুরু হওয়ার মাত্র মিনিট কয়েক বাকি। মিডিয়া ট্রিবিউনে ঢুকতে তাড়াহুড়ো। সিকিউরিটি অফিসার অ্যাক্রিডিটেশন চেক করছেন। এমন সময় বাঁ দিকে তাকাতেই দেখা গেল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গাকে।
বাংলাদেশি সাংবাদিক পরিচয় দিতেই হাত বাড়িয়ে দিলেন। সামনে থাকা সিকিউরিটি দ্রুত এখান থেকে উঠে ট্রিবিউনে সিট নেয়ার তাড়া দিচ্ছিলেন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ককে কাছে পেয়ে কোনো সাংবাদিকই দ্রুত ছাড়তে চাইবেন না। অন্য দেশের সাংবাদিকরাও ছবি তুলতে খানিকটা জটলা করলেন।
১৯৯৪ সালে আমেরিকা প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে ট্রফি উচিয়ে ধরেছিলেন কার্লোস দুঙ্গা। সেই আমেরিকাতেই ৩২ বছর পর বিশ্বকাপ। তাড়াহুড়োর মধ্যেই এ নিয়ে দুঙ্গার কাছে জানতে চাইলে বলেন, 'ইউএসএ বিশ্বকাপ আমার কাছে স্পেশাল।'

দুঙ্গা ব্রাজিলের অন্যতম সফল ফুটবলারদের একজন যিনি বিশ্বকাপ ফুটবল, অলিম্পিক ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছেন। সফল ফুটবলার অধ্যায় শেষের পর কোচিং করিয়েছেন। ব্রাজিল দলের কোচ হয়েছেন একাধিকবার। ২০১০ সালে তার অধীনে ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলেছিল। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় হলেও কোপা আমেরিকায় অবশ্য সফল হয়েছিল। ২০০৬ সালে দুঙ্গা দায়িত্ব নেয়ার পর ব্রাজিলের চিরচেনা ছন্দের খানিকটা পরিবর্তন হয়। একটু রক্ষণশীল ব্রাজিলকে দেখা যায় তার কোচিংয়েই।
ব্রাজিলের ফুটবলের অনেক কিছুর স্বাক্ষী দুঙ্গা। কৌতূহলবশত দুই একটা বিষয় অবতারণা করলেও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের বিনয়ী উত্তর, 'আমি এখানে ব্রাজিলের একটি মিডিয়ার হয়ে কাজ করছি।' দুঙ্গা ব্রাজিলের টেলিভিশন স্পোর্টস চ্যানেলের বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমেরিকায় এসেছেন। ব্রাজিলের আরেক ফুটবলার পাতোও আরেকটি মিডিয়ার হয়ে কাজ করছেন। তাই ব্রাজিলের খেলার দিন মিডিয়া ট্রিবিউন কিংবা সেন্টারে তাদের পাওয়া যায়।
খেলা ছেড়েছেন প্রায় তিন দশক। শীর্ষ পর্যায়ে কোচিংয়ে নেই তাও এক দশক। এরপরও দুঙ্গার জনপ্রিয়তা বেশ। ৬২ বছর বয়স্ক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের পেছনে এখনও মিডিয়ার আকর্ষণ আছে। ভক্ত, সমর্থকদের আবদার মেটাতে হয় এখনো। ভিড় কমাতে না দাড়ানো ও দ্রুত স্থান ত্যাগে সিকিউরিটি ও আয়োজকরা তাড়া দিলেও বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক দুঙ্গা হাসিমুখে সমর্থক ও সাংবাদিকদের আবদার মেটান।
এজেড/এইচজেএস

