ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটা ম্যাচই যেন একেকটি নতুন চিত্রনাট্য। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপে সুইডেনের যাত্রাটা যেভাবে মোড় নিল, তা বোধহয় কোনো চিত্রনাট্যকারও লিখতে পারতেন না। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে যারা বিশ্বজয়ের হুঙ্কার দিয়েছিল, ঠিক পরের ম্যাচেই ডাচ ঝড়ের সামনে উড়ে দিয়ে নিজেরা হারল ৫-১ ব্যবধানেই।
গ্রুপ ‘এফ’ এর প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের আক্রমণভাগের যে গতি আর গোল করার ক্ষুধা দেখা গিয়েছিল, তাতে ফুটবল পণ্ডিতেরা এই দলটিকে নিয়ে বড় বাজি ধরেছিলেন। ৫-১ গোলের সেই বিধ্বংসী জয়ের পর সুইডিশ শিবির যখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, ঠিক তখনই দ্বিতীয় ম্যাচে রোনাল্ড কোম্যানের নেদারল্যান্ডস যেন হুবহু সুইডেনের সেই পুরোনো স্ক্রিপ্টেই তাদের বধ করল।
ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটে ব্রায়ান ব্রবির জোড়া আঘাত এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোডি গাকপোর জোড়া টর্নেডোতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সুইডেনের চেনা রক্ষণভাগ। তিউনিসিয়া যেভাবে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল, আজ সুইডেনও ঠিক একইভাবে ডাচদের নিখুঁত ফুটবলের সামনে স্রেফ চেয়ে চেয়ে দেখেছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একই টুর্নামেন্টে পর পর দুই ম্যাচে কোনো দলের এমন হুবহু বিপরীত ফল পাওয়ার ঘটনা এক অলৌকিক কাকতালীয় ব্যাপার।
এই নাটকীয় ফলের কারণে গ্রুপ ‘এফ’-এর সমীকরণ এখন একবারে ওলটপালট। প্রথম ম্যাচে জাপানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করা নেদারল্যান্ডস আজ এই ৫-১ গোলের জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থানে ওঠার দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকে রইল। অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নেমে গেছে সুইডেন। জাপানের অবস্থান তিন নম্বরে। আর তলানিতে আছে তিউনিসিয়া।
এমএমএম/

