সুবিশাল নিউজার্সি স্টেডিয়াম। চার দিকে সুনসান নিরবতা। সেনেগালের টিম বাস আর নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ও সাংবাদিক ছাড়া তেমন কেউ নেই। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে সেনেগাল নিউইয়র্ক সময় বিকেলে প্রেস কনফারেন্স করেছে।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই ঘুরে ফিরে আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াওকে নরওয়ের চেয়ে হালান্ডকে নিয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। সেনেগালের হয়ে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ খেলা এই ফুটবলার বলেন, ‘হালান্ড অবশ্যই বড় মাপের ফুটবলার, আমরা হালান্ড নয়, পুরো নরওয়েকে নিয়েই ভাবছি।’
ম্যাচের আগে এ রকম কথাবার্তা কোচদের গতানুগতিক কৌশল। সেনেগাল কোচের কাছ থেকে এমন মন্তব্য পাওয়ার পর আবার সাংবাদিকদের প্রশ্ন। হালান্ড এমন মাপের খেলোয়াড় যিনি একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। তাকে নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে সেনেগালের কোচ বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলে যখন হালান্ডের মতো ফুটবলার থাকবে, তাকে আটকানোর জন্য আপনাকে বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবেই।’
দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের ‘আই’ গ্রুপ সেনেগাল, নরওয়ে এবং ইরাককে নিয়ে গঠিত। প্রথম ম্যাচে নরওয়ে ৪-১ গোলে ইরাককে হারিয়েছে। ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারায় সেনেগালকে। সেনেগাল-নরওয়ে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ম্যাচে যে দল জয়ী হবে তাদের নকআউট পর্ব অনেকটাই নিশ্চিত করবে। দুই দলের শক্তিমত্তা কাছাকাছি হলেও পার্থক্য গড়ার মতো বিশেষ ফুটবলার একজন– সেই হালান্ডই। তাই তাকে ঘিরেই বারবার প্রশ্ন হওয়ায় সেনেগাল কোচ আবার বলেন, ‘শুধু হালান্ড নয়, আমরা পুরো নরওয়ে নিয়েই ভাবছি।’
১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। সেই ফ্রান্সকে ২০০২ সালে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে চমক সৃষ্টি করেছিল সেনেগাল। এবার সেই ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরেই টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু করে চাপে পড়েছে আফ্রিকার দেশ। আগামীকাল নরওয়ের বিপক্ষে হারলেও তৃতীয় স্থানের জন্য লড়াই করতে হবে। সেটাও বেশ কঠিন ১২ গ্রুপের মধ্যে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে হবে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান হিসাবে।
সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও এখনই এসব নিয়ে ভাবতে চান না, ‘আমরা বিশ্বকাপের মাত্র একটি ম্যাচ শেষ করেছি। আগামীকাল ম্যাচটি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন সম্পূর্ণ মনোযোগ নরওয়েকে নিয়েই। জটিল হিসাব-নিকাশ পরে করতে চাই।’
এজেড/এএইচএস

