ডালাস স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পর রাজ্যের হতাশা নেমে এসেছিল গ্যালারিতে। পেনাল্টি থেকে তিনি গোল করতে পারবেন না, এমনটা হয়তো ঘুণাক্ষরেও কেউ কল্পনা করতে পারেননি। অবিশ্বাস্য কিছুই ঘটে গেল, তার জাদুকরী বাঁ পায়ের শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে গেল। মেসি দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে হতাশা লুকাতে চাইলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। বিরতির আগে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের রেকর্ড ১৭তম গোল করলেন, তারপর শেষ দিকে আরেকটি।
আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে মেসির নামের পাশে ছিল ১৩ গোল। আগের রাতে জোড়া গোল করে তাকে ছাড়িয়ে যান ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে পিএসজির সাবেক সতীর্থকে ছাড়িয়ে যান মেসি, হ্যাটট্রিক করে বসেন ক্লোসার পাশে।
১৬ গোল নিয়ে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি। তারপর পেনাল্টি মিস। খুব বিরক্ত লেগেছিল তার, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে ওই মুহূর্তে আমি সত্যিই খুব রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা পুষিয়ে দিতে পেরেছি।’ প্রতিপক্ষের বাধায় আরও দুটি সুযোগ নষ্ট করার পর সত্যিই পুষিয়ে দিয়েছেন মেসি।
৩৮ মিনিটে পেয়ে যান কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। ২০১৪ সালের পর সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার আসনে নতুন কেউ বসেন। তারপর ইনজুরি টাইমে ১৮তম বিশ্বকাপ গোল। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেই রেকর্ড গড়ে ফেললেন এবং ব্যবধানও বাড়ালেন। সেই ২০০৬ সালের ১৬ জুন ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন। সার্বিয়া-মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ওই গোলের ২০ বছর পর সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার আসনে তিনি।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১২১তম গোল করলেন মেসি। তবে নিশ্চয় বিশ্বকাপ গোলগুলো তার হৃদয়ে অন্যরকম ছাপ রেখেছে! এই ১৮ গোলের মধ্যে কোনটি সেরা তার কাছে? এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘সত্যি বলতে আমি জানি না, এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। আমি ক্লান্ত, আমার শক্তি কমে আসছে। আমার ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। যাই হোক, আমি এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে যাচ্ছি। আমার সতীর্থদের সাথে উদযাপন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে মেসির এটি ছিল ১৮তম জয়। এটিও তার রেকর্ড। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয়ের দৌড়ে ক্লোসাকে (১৭) পেছনে ফেলেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে মেসি বললেন, ‘আমি এই জয়ের জন্য সত্যিই খুব খুশি, বিশেষ করে এই জয় পেয়ে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জয় ছিল, অনেক লড়াই করে ও যোগ্য দল হিসেবেই আমরা এটি পেয়েছি। সামনের দিনগুলোর জন্য এটি আমাদের মনে এক ধরণের প্রশান্তি দিচ্ছে।’
এফএইচএম

