বয়সটা ৩৮ বছর ৩৬৪ দিন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদেই পা দেবেন ৩৯-এ। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স দেখতে মনে হবে, এ যেন এক চিরতরুণ। আর্জেন্টিনার এই মহাতারকাকে এখনও বিশ্বফুটবলের চূড়ায় ধরে রাখার পেছনে নেই কোনো অলৌকিক জাদু। বরং এর পেছনে রয়েছে এক দশকের বেশি সময় ধরে মেনে চলা কঠোর শৃঙ্খলা আর জীবনযাত্রার এক আমূল পরিবর্তন।
আজ থেকে ১১ বছর আগের কথা। ২০১৫ সালের দিকে মাঠের ভেতরে এবং ম্যাচ শেষে প্রায়ই বমি করতে দেখা যেত মেসিকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতে তিনি শরণাপন্ন হন ইতালির এক ছোট শহরের পুষ্টিবিদ জুলিয়ানো পোজারের। পোজার কেবল মেসির ডায়েটই বদলে দেননি, হয়ে উঠেছিলেন তার ফিটনেস গুরু।
এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই স্বীকার করেছিলেন তার আগের খাদ্যাভ্যাসের কথা, ‘২৩ বছর বয়স পর্যন্ত আমি যা তা খেয়েছি। বছরের পর বছর চকলেট, আলফাহোরেস (আর্জেন্টাইন মিষ্টি) আর কোমল পানীয় (সোডা) খেয়ে কাটিয়েছি। এখন আমি নিয়ম মেনে খাই।’

মেসিকে নতুন রূপ দিতে ডক্টর পোজার তার খাদ্যতালিকা থেকে কোমল পানীয়, চকলেট, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পিৎজা পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। একজন আর্জেন্টাইনের জন্য সবচেয়ে কঠিন হলেও কমিয়ে আনতে হয় লাল মাংস (রেড মিট) খাওয়ার পরিমাণ। এর বদলে মেসির শরীরে শক্তি জোগাতে পাঁচটি খাবারকে জ্বালানি হিসেবে নির্ধারণ করেন পোজার। এই তালিকায় ছিল প্রচুর পানি, গুণগত মানের অলিভ অয়েল, গোটা শস্য, অর্গানিক ফল ও কীটনাশকমুক্ত শাকসবজি।
পোজার বলেন, ‘চিনি হলো পেশির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর জিনিস। আমি মেসিকে ভিন্ন কোনো খেলোয়াড় বানাতে চাইনি, বরং তার শারীরিক সক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলাম। মেসি নতুন কিছু চেষ্টা করার নম্রতা দেখিয়েছিল এবং তা কাজে লেগেছে।’
এই নিয়মানুবর্তিতার ফল আর্জেন্টিনা হাতেনাতে পেয়েছে। ডায়েট বদলানোর পর থেকে মেসির সেই বমি করার সমস্যা দূর হয়েছে, কমেছে পেশির ইনজুরিতে পড়ার প্রবণতাও। তবে ৩৯ ছুঁইছুঁই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক হাসিমুখে স্বীকার করেন একটি চুরির কথা- ‘খাবারের ব্যাপারে আমি অনেক বছর ধরেই সচেতন। তবে এখনও মাঝেমধ্যে চকলেটের লোভ সামলাতে পারি না, একটু-আধটু ভুল হয়েই যায়!’
এমএমএম/

