বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে নকআউটের হিসাব-নিকাশ। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ঘিরে সেই আলোচনা আরও বেশি। কারণ, গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোথায় দাঁড়ায়, তার ওপরই নির্ভর করছে শিরোপার পথে সেলেসাওদের সম্ভাব্য যাত্রাপথ।
আজ নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচ জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, ড্র করলে রানার্সআপ আর হারলে তৃতীয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ কিংবা সেরা তৃতীয় দল—তিনটি ভিন্ন অবস্থান ব্রাজিলের সামনে খুলে দিতে পারে তিন রকমের নকআউট রোডম্যাপ। কোথাও অপেক্ষা করছে তুলনামূলক সহজ পথ, কোথাও আবার শুরু থেকেই ইউরোপের পরাশক্তিদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার সম্ভাবনা।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে
ব্রাজিল যদি গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে, তাহলে নকআউটের প্রথম ধাপে, অর্থাৎ রাউন্ড অব ৩২-এ ৩০ জুন টেক্সাসের হিউস্টনে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপের মুখোমুখি হতে পারে তারা। সেই জায়গার জন্য লড়াইয়ে রয়েছে জাপান ও সুইডেন।
শেষ ষোলোয় উঠতে পারলে ৫ জুলাই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মতো দল। এখানে নরওয়ের আসার সম্ভাবনাই বেশি।
এরপর ১০ জুলাই কোয়ার্টার-ফাইনালে দেখা হতে পারে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোনো একটি দলের। এখানে জার্মানির আসার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে সেমিতে যেতে হলে জার্মানিকে হারাতে হবে ব্রাজিলের।
তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে সেমি-ফাইনালে। ১৫ জুলাই হিসাব মিলে গেলে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথগুলোর একটি দেখা যেতে পারে। ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে স্পেন, পর্তুগাল, ঘানা, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একদলের।
সব বাধা পেরোতে পারলে ২০ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে স্বপ্নের ফাইনাল।
রানার্সআপ হলে
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে এবং রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করলে ব্রাজিলের জন্য সমীকরণ বদলে যাবে পুরোপুরি। সে ক্ষেত্রে রাউন্ড অব ৩২-এ ১ জুলাই মেক্সিকোর গুয়াদালুপে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস। নকআউটের প্রথম ম্যাচেই এমন প্রতিপক্ষ যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
সেই বাধা টপকাতে পারলে ৪ জুলাই হিউস্টনে শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হতে পারে মরক্কো অথবা দক্ষিণ কোরিয়া। কোয়ার্টার-ফাইনালে পথ আরও কঠিন হওয়ার সম্ভাবনা। ১০ জুলাই ফক্সবরোতে ব্রাজিলের সামনে দাঁড়াতে পারে ফ্রান্স অথবা জার্মানি—বিশ্ব ফুটবলের দুই ঐতিহ্যবাহী শক্তি। এরপর ১৫ জুলাই আরলিংটনে সেমি-ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইংল্যান্ড কিংবা ফ্রান্স।
তৃতীয় হলে
৪৮ দলের বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে। ব্রাজিল যদি গ্রুপ ‘সি’-তে তৃতীয় স্থানে থেকে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নেয়, তাহলে তাদের নকআউট পথ নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর।
এই পরিস্থিতিতে ১ বা ২ জুলাই ডালাস কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো অথবা নেদারল্যান্ডস। শেষ ষোলোয় অপেক্ষা করতে পারে আরও বড় পরীক্ষা। ৬ জুলাই ভ্যানকুভার বা সিয়াটলে ব্রাজিলের সামনে দাড়াতে পারে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম কিংবা স্পেন।
কোয়ার্টার-ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকা আরও ভয়ংকর। ১০ বা ১১ জুলাই কানসাস সিটি কিংবা মায়ামিতে দেখা হতে পারে আর্জেন্টিনা অথবা ফ্রান্সের সঙ্গে। আর সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে পারলে ১৬ জুলাই আটলান্টায় প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ড কিংবা পর্তুগাল।
কাগজে-কলমে হিসাব করলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটাই ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। যদিও শেষ ষোলো থেকেই জার্মানি বা স্পেনের মতো দল সামনে আসতে পারে, তবুও রানার্সআপ হওয়ার পথের তুলনায় শুরুটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক।
এইচজেএস

