World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

জার্মানিকে হারানো ইকুয়েডর কোচের লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল

জার্মানিকে হারানো ইকুয়েডর কোচের লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল

নিউজার্সির মূল স্টেডিয়ামের একটু বাইরে প্রেস কনফারেন্স কক্ষ। সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফিফা স্বেচ্ছাসেবকরা ‘নো সেলফি, অটোগ্রাফ প্লিজ’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে। চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে প্রথমবার হারিয়েছে ইকুয়েডর। এমন ম্যাচজয়ী কোচের সঙ্গে ফ্রেমবন্দী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি অনেক সাংবাদিকই। 

প্রেস কনফারেন্স শেষে এই প্রতিবেদকও সামনে এগিয়ে সেবাস্তিয়ান আন্দ্রেস বেকাসিকের সঙ্গে ফ্রেমবন্দী হয়েছেন। অন্য সাংবাদিকরা ছবি তোলার জন্য ব্যতিব্যস্ত। এর মধ্যে বাংলাদেশি সাংবাদিক পরিচয় দিতেই সেবাস্তিয়ানের প্রতিক্রিয়া– ‘ও…বাংলাদেশ?’ আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার সেবাস্তিয়ান এখন ইকুয়েডরের কোচ হলেও অনেক দিন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও ক্লাবে কাজ করেছেন। ফলে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থক এটা তার ভালোই জানা। এজন্যই হয়তো বাংলাদেশ শোনার পর এমন প্রতিক্রিয়া। 

সংবাদ সম্মেলনের শুরুটা ছিল বেশ কাঠখোট্টা। এত বড় জয়ের পর এক সাংবাদিকের প্রশ্ন, ‘এই ম্যাচের আগে কেউ ভাবেনি জার্মানি হারবে ইকুয়েডরের কাছে, আপনি ভেবেছিলেন কি?’ এই প্রশ্নের উত্তর জীবন দর্শন ও ফুটবলের বাস্তবতায় দীর্ঘ উত্তর দিয়েছেন সেবাস্তিয়ান, ‘জীবনটাই এ রকম কখনও হাসায়, আবার কখনও কাঁদায়। আপনাকে সব সময় লড়ে যেতে হবে, কখনও ফল আপনার পক্ষে আসবে, আবার কখনও বিপক্ষে। এই যেমন কিছুদিন আগেই কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র হয়েছে, আর এখন চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নকে হারালাম। জীবনের মতোই ফুটবলে নানা কিছু হতে পারে।’

dhakapost
প্রতিবেদকের সঙ্গে ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসিক

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দল হারেনি। চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানি হারল। এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বকাপের বড় অঘটন। বিষয়টি স্বীকার করে সেবাস্তিয়ান বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জার্মানির বিপক্ষে জয় ইকুয়েডরের জন্য বিশাল। এই মুহূর্তে ইকুয়েডরে বড় উৎসব হচ্ছে, এখানেও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অনেকে কষ্ট করে এসেছে। তারাই আমাদের অনুপ্রেরণা।’

জার্মানি ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে লিড নেয়। এরপর ইকুয়েডর সমতা আনে। দ্বিতীয়ার্ধে আরেক গোল করে ম্যাচ জিতে নেয়। মাঝে জার্মানির একটি পেনাল্টির আবেদন বাতিল হয়। ম্যাচ বিশ্লেষণে ইকুয়েডরের কোচ বলেন, ‘আমরা ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। প্রথম গোল নিয়ে আমার খানিকটা আপত্তি ছিল। শেষ পর্যন্ত ফুটবলাররা ভালো খেলেই ম্যাচটি জিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

Image

বয়সটা মাত্র ৩৬। কথাবার্তায় বেশ পরিপক্বতা। মাঠের কৌশলে যে বেশ পটু তা জার্মানিকে স্তব্ধ করে প্রমাণ করেছেন। ইকুয়েডরকে নিয়ে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য আর্জেন্টাইন সেবাস্তিয়ানের কণ্ঠে, ‘ইকুয়েডর কখনও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেনি। এবার লক্ষ্য থাকবে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার।’

এজেড/এএইচএস