বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পর থেকেই নরওয়ে-ফ্রান্স ম্যাচটি ছিল গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে কিলিয়ান এমবাপে, অন্যদিকে আর্লিং হালান্ড—দুই সুপারস্টারের মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেই সঙ্গে ম্যাচটি নির্ধারণ করতে পারত ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও। কিন্তু ম্যাচ শুরুর একাদশ ঘোষণার পরই চমকে যান অনেকেই। নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হলান্ডকে শুরু থেকেই মাঠে নামাননি কোচ স্টালে সোলবাক্কেন।
তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু দেখছেন না নরওয়ের কোচিং স্টাফ। নকআউট পর্বকে সামনে রেখে নিয়মিত কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোলবাক্কেন। সেই তালিকাতেই আছেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন খ্যাত হালান্ড এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার সোরলথ। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে হলান্ড চোটে পড়েছেন বা ম্যাচের বাইরে আছেন। তিনি বদলি বেঞ্চে রয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে ম্যাচের যেকোনো সময় মাঠে নামতে পারবেন।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ে ও ফ্রান্স—দুই দলই মাঠে নেমেছিল সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে। ফলে জয়ী দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি নকআউট পর্বে তুলনামূলক সুবিধাজনক সমীকরণও পেতে পারে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই হয়তো দীর্ঘ টুর্নামেন্টের কথা ভেবে ঝুঁকি না নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন সোলবাক্কেন।
তবে হলান্ডকে বেঞ্চে রাখার আরেকটি আলোচনাও রয়েছে। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট দৌড়ে তখনও শক্ত অবস্থানে ছিলেন নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার। দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ছিল ৪, যা কিলিয়ান এমবাপের সমান এবং লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি কম। ফলে মাঠের প্রতিটি মিনিটই তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
তবু ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকেই হয়তো বেশি গুরুত্ব দিয়েছে নরওয়ে। কারণ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে কেবল একটি ম্যাচ নয়, সামনে আরও কয়েকটি বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আর সেই কারণেই হয়তো ফ্রান্সের মতো বড় ম্যাচেও শুরু থেকে মাঠে দেখা যায়নি আর্লিং হালান্ডকে।
এইচজেএস

