স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে নকআউটে উঠে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। কয়েক লাখ জনসংখ্যার দেশ ক্ষুদ্র দেশটির রূপকথার মতো বিশ্বকাপ যাত্রার নেপথ্য নায়ক গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে রাতারাতি আলোচনায় আসেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে ভোজিনহাকে খুব কম মানুষই চিনতেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তেমন পরিচিত মুখ ছিলেন না। অথচ তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা এরই মধ্যে ১৭ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে।
রাউন্ড অব বত্রিশের ম্যাচে আগামী ৪ জুলাই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। মজার বিষয় হচ্ছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ভোজিনহা। মহাতারকা লিওনেল মেসির প্রতিও মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন।
আর্জেন্টিনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “যদি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারি, সেটা দারুণ হবে। কারণ আমার কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মেসি।” মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “সত্যি বলতে, আমি লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলতে চাই। সুযোগ হলে তার জার্সিটাও সংগ্রহ করতে চাই।”
মজার ছলে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেপ ভার্দে যদি ১-০ গোলে জেতে এবং তিনি যদি একটি পেনাল্টিও ঠেকান? জবাবে ভোজিনহা হেসে বলেন, “ওটা হলে খুব বেশি বাড়াবাড়ি হবে হয়তো। এমন কীর্তি গড়া সত্যিই স্বপ্নের মতো।” অথচ কে জানত, কয়েক সপ্তাহ পর বিশ্বকাপ খেলতে নেমে দুর্দান্ত সব সেভ করে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেলবেন তিনি নিজেই!
ভোজিনহার সঙ্গে আর্জেন্টিনার আরেকটি অদ্ভুত যোগসূত্রও আছে। তার অফিসিয়াল নাম জোসিমার হলেও, তার বাবা চেয়েছিলেন ছেলের নাম ভালদানো রাখতে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি জর্জ ভালদানোর নামে। কিন্তু কেপ ভার্দের নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ সেই নাম অনুমোদন করেনি।
এফআই

