ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতি চালিত হয় উদযাপন আর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, যা দেশের প্রধান দুটি প্রতীক। আর দুটোর মিলিত রূপ দেখা যায় বিশ্বকাপের সময়ে। সাধারণত জুনেই শুরু হয় বিশ্বকাপ, আর এই সময়ে ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে সেন্ট অ্যান্থনি, সেন্ট জন ও সেন্ট পিটারের সম্মানে পালিত হয় উৎসব।
গ্লোবো স্পোর্ত-এর অনুরোধে গাতো মায়েস্ত্রো একটি জরিপ করেছে, যেখানে বিস্ময়কর এক তথ্য উঠে এসেছে। ধর্মীয় বিশ্বাস আর ফুটবলের সমন্বয়ে সাফল্য প্রমাণিত: এই তিন সেন্টকে ঘিরে পালিত উৎসবের দিনে ব্রাজিল ১২ ম্যাচ খেলে হেরেছে কেবল একটি, ড্র দুটি এবং জয় ৯ বার।
এই সোমবার (২৯ জুন) ব্রাজিল মাঠে নামছে, এদিন সাও পেদ্রো উৎসব। এই দিনে এবং এই প্রতিযোগিতায় তারা শেষবার খেলেছিল ৬৮ বছর আগে, সুইডেনের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে পেলে ও ভাভা উভয়েই জোড়া গোল করেন এবং জাগালো একটি। ওই দিন ফাইনালে ৫-২ গোলে জিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল সেলেসাওরা।
শতভাগ সাফল্যের হার আছে ১৩ জুন, যেদিন উদযাপিত হয় সেন্ট অ্যান্থনি দিবস। এই দিনে ব্রাজিল পাঁচ ম্যাচ খেলেছে। যুগোস্লাভিয়া ও মরক্কোর বিপক্ষে দুটি ড্র এবং তিনটি জয় চিলি, কোস্টারিকা ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। বিশেষ করে কোস্টারিকার বিপক্ষে জয় ছিল তাদের পঞ্চম শিরোপা জয়ের মিশনের অন্তর্ভুক্ত। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় রাউন্ডের ওই ম্যাচে ব্রাজিলের ৫-২ গোলের জয়ে এদমিলসন, রিভালদো, জুনিয়রের সঙ্গে রোনালদো জোড়া গোল করেন।
আরেকটি হচ্ছে সেন্ট জন’স দিবস- তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুপরিচিত। ২৪ জুনের এই উৎসবের দিনেই একমাত্র হার। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। এই দিনে ব্রাজিল জিতেছে পাঁচবার, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম ও চতুর্থ তারকা যোগ করার মিশন।
এই তিন দিবসে পেলে ও ভাভা সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন, পাঁচটি করে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র করেছেন তিন গোল, সবগুলোই এই আসরে। গারিঞ্জা, রোনালদো ও আদেমির করেছেন দুটি করে গোল। এছাড়া জাগালো, রিভালদো, কাকা ও ম্যাথিউস কুনহাও জালের দেখা পাওয়া অন্য ১৪ খেলোয়াড়দের তালিকায় আছেন।
জুনের সেন্ট উৎসবের স্কোর ও গোলদাতা
সেন্ট অ্যান্থনি - ১৩ জুন
ব্রাজিল ৪-২ চিলি – ১৯৬২ বিশ্বকাপ - সেমিফাইনাল
ব্রাজিলের গোলদাতা: গ্যারিঞ্চা (২) এবং ভাভা (২)।
ব্রাজিল ০-০ যুগোস্লাভিয়া – ১৯৭৪ বিশ্বকাপ - প্রথম রাউন্ড
কোস্টারিকা ২-৫ ব্রাজিল – ২০০২ বিশ্বকাপ - গ্রুপ পর্বের ৩য় ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: রোনালদো (২), এডমিলসন, রিভালদো এবং জুনিয়র।
ব্রাজিল ১-০ ক্রোয়েশিয়া – ২০০৬ বিশ্বকাপ - গ্রুপ পর্বের ১ম ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: কাকা।
ব্রাজিল ১-১ মরক্কো – ২০২৬ বিশ্বকাপ - গ্রুপ পর্বের ১ম ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: ভিনি জুনিয়র।
সেন্ট জনস ডে - ২৪ জুন
ব্রাজিল ৪-০ মেক্সিকো – ১৯৫০ বিশ্বকাপ - গ্রুপ পর্বের ১ম ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: আদেমির (২), জাইর এবং বাল্তাজার।
ব্রাজিল ৫-২ ফ্রান্স – ১৯৫৮ বিশ্বকাপ - সেমিফাইনাল
ব্রাজিলের গোলদাতা: পেলে (৩), ভাভা এবং দিদি।
ব্রাজিল ২-১ ইতালি – ১৯৭৮ বিশ্বকাপ - তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: নেলিনহো এবং দিরসেউ।
ব্রাজিল ০-১ আর্জেন্টিনা – ১৯৯০ বিশ্বকাপ - রাউন্ড অব ১৬
ব্রাজিল ৩-০ ক্যামেরুন – ১৯৯৪ বিশ্বকাপ - গ্রুপ পর্বের ২য় ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: রোমারিও, মার্সিও সান্তোস এবং বেবেতো।
স্কটল্যান্ড ০-৩ ব্রাজিল – ২০২৬ বিশ্বকাপ - গ্রুপ পর্বের ৩য় ম্যাচ
ব্রাজিলের গোলদাতা: ভিনি জুনিয়র (২) এবং ম্যাথিউস কুনহা।
সেন্ট পিটার - ২৯ জুন
ব্রাজিল ৫-২ সুইডেন – ১৯৫৮ বিশ্বকাপ - ফাইনাল
ব্রাজিলের গোলদাতা: ভাভা (২), পেলে (২) এবং জাগালো।
এফএইচএম

