প্রথমার্ধে ব্রাজিল জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে ছিল। তাতে ইতিহাস তাদের বিরুদ্ধে চলে গেল। গত ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের নকআউটে পিছিয়ে পড়ে কখনো ঘুরে দাঁড়ানো জয় পায়নি তারা। কিন্তু এবার হেক্সা মিশনে কোমর বেঁধে নামা সেলেসাওরা ইতিহাস বদলে দিলো। ২০০২ সালের পর প্রথমবার নকআউটে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানো জয় পেল।
এর আগে নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর আর কোনো নকআউট ম্যাচে পেছনে পড়ে জিততে পারেনি ব্রাজিল। নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সর্বশেষ পিছিয়ে পড়েও জয় এসেছিল ২০০২ সালের ২১ জুন। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে মাইকেল ওয়েন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিলেও প্রথমার্ধের ঠিক আগেই রিভালদো সমতা ফেরান এবং পরে রোনালদিনহো গাউচোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
প্রতিপক্ষ প্রথম গোল করার পর ব্রাজিল ম্যাচ জিতেছে—কেবল এমন ম্যাচগুলোকে ‘ঘুরে দাঁড়ানো’ হিসেব করলে, বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেলেসাওরা এর আগে এ পর্যন্ত ১৪ বার এই কীর্তি গড়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই (৭টি) ঘটেছে গ্রুপ পর্বে। বাকি ৭টি এসেছে প্রথম রাউন্ডের পরে; যদিও তার মধ্যে একটি ছিল ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ফলে, প্রকৃতপক্ষে পরবর্তী রাউন্ডে কোয়ালিফাই করা বা শিরোপা নিশ্চিত করার মতো প্রত্যারবর্তন ছিল ৬টি।
ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে দুটিই এসেছে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে খেলা শুরুর মাত্র চার মিনিটেই লিডহোমের গোলে সুইডেন এগিয়ে যায়। তবে ব্রাজিল এর কড়া জবাব দেয় ভাভা, পেলে ও জাগালোর গোলে এবং ৫-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়। এর ঠিক চার বছর পর, ১৯৬২ সালের ফাইনালে মাসোপুস্ট চেকোস্লোভাকিয়াকে এগিয়ে নিলেও আমারিল্ডো, জিতো এবং ভাভার গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে ব্রাজিল।
প্রথম প্রত্যাবর্তনগুলো হয়েছিল ১৯৩৮ সালে। ওইবার কোয়ার্টার ফাইনালের টাইব্রেকার ম্যাচে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে এবং সুইডেনের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। সুইডিশদের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। ১৯৭০-এর প্রজন্মও দুটি ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছিল, তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে এবং সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে। ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও স্কটল্যান্ড প্রথমে গোল করলেও জিকো, সক্রেটিস ও তাদের দলের কাছে পরাজিত হয়।
তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার পর ব্রাজিল আরও দুটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছিল। তবে দুটিই ছিল গ্রুপ পর্বে। তারা ২০০৬ সালে জাপানকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারায়। তবে নকআউট পর্বে ২০০২ সালের পর যে তিনবার তারা প্রথম গোলটি হজম করেছিল, তার প্রতিটিতেই তারা পরাজিত হয়। ২০০৬ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে, ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে ও ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে।
কিন্তু এবার সেই হতাশা থেকে বেরিয়ে এলো ব্রাজিল। সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো সমতা ফেরান। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে মার্তিনেল্লির করেন জয়সূচক গোল। তাহলে এবার ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের আশা করাই যায়!
এফএইচএম

