জাপানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে ব্রাজিল। কিন্তু ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে। শেষ ষোলোর ম্যাচে তাকে না পাওয়ার তথ্য ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে তার পুরো আসর শেষ বলে আশঙ্কা করছে দেশটির গণমাধ্যম।
বাম ঊরুর পেছনে গ্রেড-২ পর্যায়ের চোট পেয়েছেন পাকেতা। গতকাল (মঙ্গলবার) এমআরআই-সহ বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষায় তার হ্যামস্ট্রিং পেশিতে চোট ধরা পড়ে। সেই খবর প্রকাশের আগে পাকেতা নিজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাইবেলের কয়েকটি আয়াত পোস্ট করেন। পরে তিনি একটি বার্তায় লেখেন, ‘আমি এর আগেও এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি।’
২৮ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলারের চোট নিয়ে এক বিবৃতিতে সিবিএফ জানিয়েছে, ‘মঙ্গলবার ফুটবলার লুকাস পাকেতার একটি ইমেজিং পরীক্ষায় তার বাম ঊরুর পেছনের অংশে মাংসপেশীর আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে নিবিড় চিকিৎসা পদ্ধতির অধীনে থাকবেন, তাকে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ করে খেলায় ফেরানোই লক্ষ্য।’
পরীক্ষায় লুকাস পাকেতার ঊরুর পেছনের পেশিতে গ্রেড-২ মাত্রার চিড় ধরা পড়েছে। তার মাঠে ফিরতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে প্রাথমিকভাবে। এদিকে, শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিল আগামী ৫ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে। নিউজার্সিতে হবে সেই ম্যাচ। জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে এরপর ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৫ জুলাই সেমিফাইনাল খেলবে কার্লো আনচেলত্তির দল।
এদিকে, ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ জানিয়েছে, পাকেতার বিশ্বকাপে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় শেষ। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল দলের সঙ্গেই থাকবেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সুস্থ হয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও তার খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী নয়। যদিও সিবিএফ এখনই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে বাদ দিচ্ছে না।
ব্রাজিল ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্ভাব্য ফাইনালে উঠলে অন্তত বদলি বেঞ্চে তাকে রাখা সম্ভব হতে পারে– এমন ক্ষীণ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সিবিএফ। তবে নকআউট পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ২০ নম্বর জার্সিধারী এই মিডফিল্ডারকে পাওয়ার সুযোগ কম। যে কারণে তাকে অবশ্য আগেভাগেই নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চেয়েছিল ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি জাতীয় দল।
যদিও বিশ্বকাপের স্কোয়াডে পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই আনচেলত্তির সামনে। কারণ প্রতিটি দলের সামনে স্কোয়াড পরিবর্তনের সময়সীমা ছিল আসরের প্রথম ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগপর্যন্ত। ব্রাজিলের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ১২ জুন সন্ধ্যা ৭টায়, অর্থাৎ ব্রাজিল-মরক্কো (১-১) ম্যাচের আগেরদিন। এরপর থেকে কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে তার পরিবর্তে নতুন কাউকে দলে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে রাফিনিয়ার পাশাপাশি পাকেতার অনুপস্থিতিতেও ব্রাজিলকে বর্তমান স্কোয়াড নিয়েই টুর্নামেন্টের বাকি পথ পাড়ি দিতে হবে।
এএইচএস

