ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ক্রোটদের ইনজুরি টাইমের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। তাতে রাতের আগের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জেতা স্পেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে চূড়ান্ত হলো পর্তুগাল।
ইউরোপের দুই দেশ আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে স্পেন ও পর্তুগাল। তাতে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে শেষ ষোলোতে। গত বছর ৮ জুন অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে পর্তুগাল ও স্পেন ২-২ গোলে ড্র করে। পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৪ গোলে জেতে রোনালদোরা। এবার সেই হারের শোধ তুলতে চাইবে স্পেন।
ইউরোপের হওয়ায় দুই দলের দেখা হয়েছে অসংখ্যবার। ৪১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও পর্তুগাল। এর মধ্যে স্পেন ১৮ ম্যাচ জিতে এগিয়ে, ড্র হয়েছে ১৬টি আর পর্তুগালের জয় ৭টি।
বিশ্বকাপে ছয়বার দেখা হয়েছে দুই দলের। ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্বে রোনালদোর হ্যাটট্রিকে স্পেনের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে পর্তুগাল। সর্বপ্রথম বিশ্বমঞ্চে তাদের দেখা হয়েছিল ১৯৩৪ সালে। ওইবার ইসিদ্রো লাঙ্গারার পাঁচ গোলে ৯-০ তে পর্তুগালকে হারায় স্পেন। একই আসরে পরের ম্যাচে ২-১ গোলে জেতে স্পেন। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ৫-১ গোলে হারে পর্তুগাল এবং পরে ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে। ২০১০ সালেও শেষ ষোলোতে দেখা হয়েছিল তাদের। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেন।
৫৩তম মিনিটে এক গোল খাওয়ার পর মনে হচ্ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের যাত্রা হয়তো এখানেই শেষ হতে চলেছে। কিন্তু নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারায়নি তারা। অবশেষে ৬৮তম মিনিটে একটি পেনাল্টি আদায় করে নেয় দলটি। তারপর গোল করে রোনালদো ম্যাচে সমতা ফেরান।
তারপর ইনজুরি টাইমেও স্কোর ছিল একই। খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৯৪তম মিনিটে রামোসের দুর্দান্ত এক হেডার ম্যাচটিতে আবার নতুন উত্তেজনা আনে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক নাটকীয় সমাপ্তির সম্ভাবনা জেগেছিল, ক্রোয়েশিয়া একেবারে শেষ মুহূর্তের শটে গোল করলে। কিন্তু ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না। কারণ ভিএআর তাদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। তাতে গোল বাতিল হওয়ায় ম্যাচ শেষ হয় নাটকীয়ভাবে।
এফএইচএম

