বিচিত্র এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী নিউইয়র্কের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। ম্যাচ শুরুর সময় ছিল তীব্র গরম ও রোদ। নির্ধারিত সময়ের শেষ থেকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি। আবহাওয়ার মতো ক্ষণে ক্ষণে বদলাতে থাকা ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে।
নিউইয়র্কের আবহাওয়া বড়ই বিচিত্র। গরমে জনজীবন ছিল হাঁসফাস। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা রোদে পুড়ে হার্ডসন পার্কে খেলা দেখা শুরু করেন। ম্যাচের ৮০ মিনিটের দিকে ঝড়ো আবহাওয়ায় অনেকে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। অন্তঃপ্রাণ সমর্থকরা বজ্রপাত ও বৃষ্টির মধ্যেও পর্দার সামনে রইলেন।
বাচ্চা নিয়ে খেলা দেখতে এসেছিলেন অনেকে। তারা বাধ্য হয়ে স্ক্রিনের সামনে এক ছাউনির নিচে দাঁড়ায়। বৃষ্টি থেকে গা বাঁচানোই যেখানে দায় এর মধ্যেও সবাই মোবাইল হাতে খেলা দেখার প্রাণান্ত চেষ্টা। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার গোলের পর বৃষ্টির মধ্যেই চলে উল্লাস।

কেপ ভার্দে দমার নয়। তারাও কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্দান্ত গোলে খেলায় সমতা আনে। এবার আরেক দফা উল্লাস। কেপ ভার্দের প্রকৃত সাপোর্টার সংখ্যা কম হলেও আর্জেন্টিনা বিরোধী পক্ষের সমর্থন দেখা গেছে অনেক।
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে মিশর ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে আরেক দফা পিছিয়ে পড়ে সমতা আনে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ম্যাচের ফল নিয়ে যখন শঙ্কায়। তখন আর্জেন্টিনা আরেক গোল করলে শুরু হয় জয়ের উল্লাস।
কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে নবাগত দল। এই দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ঘাম ঝরিয়েছে। তাই সমর্থকরা চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে অনেকে আনন্দে কেঁদেছেন। বয়স ভেদাভেদ ভুলে সবাই ‘আর্হেন্টিনা, আর্হেন্টিনা’ বলে স্লোগান দেন। কেউ মেসি, ম্যারাডোনাকে নিয়ে গান ধরেছেন। অনেক সমর্থক বলছেন, ‘মেসির ওপর প্রত্যাশা ছিল। সে কিছু করবেই। নিজে গোল করিয়েছে আবার গোল করেছে।’
বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে এসেছে এক দম্পতি। তারা ডালাসে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ দেখেছেন। আর ম্যাচ টিকিট না থাকায় নিউইয়র্কের ফ্যান জোন থেকেই বিশ্বকাপ দেখবেন, ‘আমরা এক মাসের ছুটি নিয়ে এসেছি। আমাদের দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে খারাপ লাগত অনেক।’
এজেড/এফএইচএম

