প্যারাগুয়ে ও ফ্রান্সের ম্যাচে মাঠের মধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে। ফাউলের পর ফাউল হয়েছে। যদিও রেফারি মাত্র তিনবার হলুদ কার্ড বের করেছেন। এমন ম্যাচের পর দক্ষিণ আমেরিকান দলের বিপক্ষে ‘কুৎসিত’ খেলার অভিযোগ তোলেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচ শেষেও নিজের ‘দম্ভ’ প্রকাশ করেন তিনি। তার অদ্ভুত আচরণ নিয়ে ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন প্যারাগুয়ে কিপার অরল্যান্ডো গিল।
শেষ ৩২ এ জার্মানিকে রুখে দেন গিল। শুটআউটে দুটি সেভে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের পথ দেখান সান লরেঞ্জো গোলকিপার। আজ শেষ ষোলোর ম্যাচেও চারটি সেভ করেছেন তিনি। কিন্তু ৭০তম মিনিটে এমবাপের পেনাল্টি রুখে দিতে ব্যর্থ হন। ওই গোলেই হেরে বিদায় নিয়েছে প্যারাগুয়ে। স্টপেজ টাইমে ডাবল সেভে এমবাপের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হতে দেননি গিল।
দল হারলেও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন প্যারাগুয়ে গোলকিপার। তবে হারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ তারকা এমবাপের অদ্ভুত আচরণে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন গিল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর প্যারাগুয়ের ডি বক্সে দুজনে কাছাকাছি ছিলেন। প্যারাগুয়ে কিপার সৌজন্যতা বিনিময়ে ফরাসি অধিনায়কের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়ে দেন। তার সঙ্গে হাত মেলানো দূরের কথা, তাকিয়েও দেখার প্রয়োজন মনে করেননি এমবাপে। গিল প্রতিক্রিয়া দেখান। এমবাপের পিঠে বল ছুড়ে মারেন।
ম্যাচ শেষ হতেই এনিয়ে কথা বলেছেন গিল। এই ঘটনা নিয়ে তার কথা, ‘তাকে অভিনন্দন জানাতে চেয়েছিলাম। এজন্য হাত মেলানোর জন্য হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেনি। আমাকে উপেক্ষা করেছে। আমি একটু রেগে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে মেজাজ ঠাণ্ডা করেছি।’

তিনি বললেন, ‘যাই হোক, তাকে অভিনন্দন। তার বিশ্বকাপ চমৎকার যাচ্ছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে তারা ফেভারিট।’
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে গিল বললেন, ‘আমরা মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি। প্যারাগুয়ে মাঠে তাদের সবটা দিয়েছে।’ পেনাল্টি না হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিতে পারতেন তিনি, ‘যদি পেনাল্টিটা না হতো, আমি মনে করি আমরা ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিতে পারতাম। কারণ আমরা ভালোভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম। আমরা তাদের পায়ে বল রাখতে দেইনি।’
ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন, ‘আমরা জানতাম কোন ধরনের ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আমরাও আমাদের হাত নোংরা করতে পারি। আমরা জানি কীভাবে সেটা করতে হয়। আমরা জানি কীভাবে কুৎসিত ফুটবল খেলতে হয়। মনে হয় তারা ভেবেছিল আমরা টাক্সিডো (জমকালো পোশাক) পরে মাঠে হাজির হব, কিন্তু আমরা প্রস্তুত ছিলাম।’
ম্যাচে মোট ২৪টি ফাউল হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৩ বার ফাউল করেছে প্যারাগুয়ে। তবে তিনটি হলুদ কার্ডের সবগুলোই দেখতে হয়েছে ফ্রান্সকে। কোচ দিদিয়ের দেশম ম্যাচ শেষে বললেন, ‘এটা সহজ ছিল না। আমরা সুযোগগুলোর একটি নিতে পারলে ম্যাচ আরও বেশি স্বস্তিদায়ক হতো।’
তিনি বলে গেলেন, ‘প্যারাগুয়ে সব কৌশল ব্যবহার করেছে। এই ধরনের ফুটবল মানুষ উপভোগ করে না। কিন্তু আমরা মনোযোগ ধরে রেখেছিলাম। এটা সহজ ছিল না।’
এফএইচএম

