পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রূপকথায় সব আলো কেড়ে নিয়েছেন আর্লিং হালান্ডে। তার জোড়া গোলের বন্দনায় মুখর ফুটবলবিশ্ব। কিন্তু ম্যাচজুড়ে নরওয়ের গোলপোস্টের নিচে যে প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন তাদের গোলরক্ষক এরিয়ান নাইল্যান্ড, হালান্ড-ঝড়ের তীব্রতায় তার সেই অবিশ্বাস্য বীরত্ব কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেল। অথচ তিনি পেনাল্টিটা না থামালে ম্যাচের গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত।
ম্যাচের প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল সেলেসাওরা, তখন নরওয়ে ডিফেন্সকে একাই নেতৃত্ব দিয়েছেন নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধের শুরুতেই ব্রাজিল পেনাল্টি পায়, তখন স্টেডিয়ামের সবাই ধরেই নিয়েছিল লিড নিচ্ছে ব্রাজিল। কিন্তু ব্রুনো গুইমারাসের শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন নাইল্যান্ড। এই একটি সেভ পুরো নরওয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বদলে দেয়।
শুধু পেনাল্টি সেভই নয়, প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহার দূরপাল্লার শট এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির ভলিও কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত না করলে প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত নরওয়ে।
আর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই গোলের এক দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এন্দ্রিক। বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিককে। বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। বীরত্বের সঙ্গে ব্রাজিলকে হতাশ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক।
এদিকে ভিনিসিয়ুসের গতিময় আক্রমণগুলোর সামনে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি শটটি তিনি ঠেকাতে না পারলেও পুরো ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে যেভাবে হতাশ করেছেন, তা নরওয়েকে ম্যাচ জেতাতে হালান্ডের গোলের মতোই সমান ভূমিকা রেখেছে।
এমএমএম/

