একদিন যিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক, শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেখা গেল অনেকটাই নিস্তেজ। ম্যাচ শেষে চোখের জলই যেন বলে দিল, শেষ হয়ে গেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক অধ্যায়ের বিশ্বকাপ যাত্রা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালকে ১–০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে স্পেন। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল রোনালদোর হতাশাজনক পারফরম্যান্সও। মাঠে যেন তাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। অনেকের চোখে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বিবর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে থেকে খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি তার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন বল স্পর্শের রেকর্ড।
নকআউট পর্বে বরাবরই গোলের জন্য লড়তে হয়েছে তাকে। বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচেই দুইয়ের বেশি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক। ২০০৬ সালের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২০১০ সালের শেষ ষোলোতে স্পেনের বিপক্ষে দুটি করে শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিলেন।
আরও একটি পরিসংখ্যান রোনালদোর বদলে যাওয়া ফুটবলীয় বাস্তবতার কথা বলে দেয়। বিশ্বকাপে টানা নয় ম্যাচ ধরে কোনো ড্রিবলের চেষ্টাই করেননি তিনি। সফল ড্রিবলের দেখা নেই শেষ ১৫ ম্যাচেও।
এবারের বিশ্বকাপে রোনালদো নিয়েছেন ১৭টি শট। কিন্তু একটি সুযোগও তৈরি করতে পারেননি সতীর্থদের জন্য। শেষ ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সুযোগ তৈরি না করেও সবচেয়ে বেশি শট নেওয়ার রেকর্ড এটি। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর আলবার্তো গার্সিয়া আসপে ১৫টি শট নিয়ে একটি গোল করেছিলেন।
তবু সংখ্যার হিসাবের বাইরে রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় রয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে তিনি করেছেন ১১ গোল, যা পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। মজার বিষয়, এই ১১ গোলের মধ্যে ১০টিই এসেছে গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্বে তার একমাত্র গোলটি এসেছে চলতি আসরেই, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে।
রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়েছে হতাশার রাতে। কিন্তু তার রেকর্ড, অর্জন আর দুই দশকের বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে রেখে যাওয়া প্রভাব তাকে স্মরণীয় করে রাখবে আরও বহু বছর।
এইচজেএস

