World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

মিশরের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকার পর

অপরাধবোধে ভুগছিলেন মেসি, থমথমে পরিস্থিতি ছিল আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে

অপরাধবোধে ভুগছিলেন মেসি, থমথমে পরিস্থিতি ছিল আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে

অবিশ্বাস্য বললেও হয়তো কম বলা হবে। মিশরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল দিয়ে স্মরণীয় এক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। মহানাটকীয় জয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হলেও মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর হতাশা ঘিরে ধরেছিল খোদ ফুটবলারদেরই।  

নিজের পারফরম্যান্স ও ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন আলবিসেলেস্তে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ম্যাচের পর প্রতিক্রিয়ায় এমিলিয়ানো আক্ষেপ করে বলছিলেন, দলকে আশানুরূপ ‘সাহায্য’ করতে পারেননি তিনি। সামনের ম্যাচগুলোতে নিজের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানালেন।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। নিজের পারফরম্যান্সের বেশ কঠোর সমালোচনা করে এমিলিয়ানো বলেন, ‘আমরা যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেলাম, এরপর আমার মনে হচ্ছিল আমি কাউকে সাহায্য করতে পারছি না। এই অনুভূতিটা আমার একদমই ভালো লাগেনি। আমার বিশ্বাস, আমার সময় আসবে। দলকে আমার আরও অনেক বেশি সাহায্য করা দরকার। গত কয়েকটি ম্যাচে দলের বাকিরা আমাকে বাঁচিয়েছে, এবার আমার পালা তাদের জন্য কিছু করার।’

ম্যাচের প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের পর ড্রেসিংরুমের থমথমে পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। নিজের দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতিতে লিও (মেসি) বেশ অপরাধবোধে ভুগছিল। কিন্তু ও আমাদের এতবার উদ্ধার করেছে যে, এবার আমার দায়িত্ব ছিল ওর জন্য হলেও নিজের খেলাটা আরও খেলার।’

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা এবং কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিল। মনে হচ্ছিল আমরা হয়তো বিদায় নিচ্ছি এবং আমি দলের জন্য যথেষ্ট করতে পারিনি। আমরা কাউকে হতাশ করতে চাই না, আমরা প্রতিটি আর্জেন্টাইনকে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। ইউরোপিয়ানদের মতো হয়তো অনেক সুযোগ-সুবিধা আমাদের নেই, তবে আমরা সবসময় হাসিখুশি থেকে নিজেদের উজার করে দেওয়ার চেষ্টা করি।’

গ্রুপ পর্ব ও নকআউটে কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের যে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন দিবু। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম যে—গত বিশ্বকাপে আমাদের এতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি, যতটা এই দুটি ম্যাচে হতে হলো। তবে সামনে যা আসছে তার মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। যদি আমাদের কষ্ট করে জিততে হয়, আমরা তা-ই করব। আশা করি সামনে এমন কোনো ম্যাচ আসবে যেখানে আমাদের এতটা ভুগতে হবে না।’

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অদ্ভুত ও মজার ছবি পোস্ট করেছেন মার্টিনেজ, যা মূলত ম্যাচ চলাকালীন ভক্তদের স্নায়ুচাপের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ছবিতে দেখা যায়, একজন চিকিৎসক এক রোগীর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) মাপছেন। সেই পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করে হাসতে হাসতে বলেন, শেষ ছবিটা আসলে আমরা সবাই যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, সেটাই ফুটিয়ে তোলে, তাই না? এটাই আসলে আর্জেন্টিনা!

এফআই